লন্ডনের পূর্বাঞ্চলের বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম বরোকে রাজধানীর সবচেয়ে কম বন্ধুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সাম্প্রতিক এক জরিপ। ‘ন্যাশনাল কনভারসেশন’-এর সরকারি তথ্যভিত্তিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই বরোর ৭৯ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন তারা তাদের প্রতিবেশীদের বিশ্বাস করতে পারেন না, যা লন্ডনের ৩২টি বরোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল।
জরিপে শুধু লন্ডন নয়, ইংল্যান্ডের ২৯৬টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যেও বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। সামাজিক সংযোগ বা ‘কানেকশন’ সূচকে বরোটির স্কোর মাত্র ৮-এর মধ্যে ১০০, যা এটিকে দেশের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায়গুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, বরোটির ১০.১ শতাংশ মানুষ নিয়মিত একাকীত্ব অনুভব করেন, যেখানে ইংল্যান্ডের জাতীয় গড় ৬.৬ শতাংশ। একই সঙ্গে মাত্র ৪২.৮ শতাংশ বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা এই এলাকায় বসবাস নিয়ে গর্ববোধ করেন; জাতীয় গড় সেখানে ৫৯.৭ শতাংশ।
প্রতিবেশীদের প্রতি আস্থার পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণের চিত্রও উদ্বেগজনক। মাত্র ২১.১ শতাংশ বাসিন্দা বলেছেন, তারা তাদের প্রতিবেশীদের বিশ্বাস করেন। এছাড়া মাসে অন্তত একবার স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেন এমন মানুষের হার মাত্র ১০.৯ শতাংশ, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা সবসময় এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় প্রতিবেশীদের মধ্যে খাবার ভাগাভাগি করা, বাড়ির চাবি একে অন্যের কাছে রেখে যাওয়া এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করার সংস্কৃতি এখনো রয়েছে। যদিও তারা অপরিচ্ছন্ন জনপরিসর, সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং অবকাঠামোগত ঘাটতিকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই লন্ডনের অন্যতম বঞ্চিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বরোটির ৪৬ হাজার ১০০টি পরিবার, অর্থাৎ ৬২.৪ শতাংশ পরিবার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য বা আবাসনের অন্তত একটি ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার। এই পরিস্থিতিই সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এলাকাটির উন্নয়নেও বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। বার্কিং রিভারসাইডে ইতোমধ্যে ২ হাজারের বেশি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, যার ৪১ শতাংশই সাশ্রয়ী মূল্যের। পাশাপাশি নতুন ওভারগ্রাউন্ড স্টেশন, টেমস নদীর নৌযানঘাট এবং ডেগেনহ্যামে প্রায় ১ হাজার ৩০০ নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ভবিষ্যতে এলাকার চেহারা বদলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবাসন বাজারের দিক থেকেও বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম লন্ডনের তুলনায় অনেকটাই সাশ্রয়ী। এখানে গত এক বছরে একটি বাড়ির গড় মূল্য ছিল প্রায় ৪ লাখ ২৮ হাজার ৯০৮ পাউন্ড, যা লন্ডনের গড় বাড়ির মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এ কারণেই অনেক প্রথমবারের ক্রেতার কাছে এলাকাটি এখনো আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রঃ ট্রাস্ট ফর লন্ডন\মেট্রো
এম.কে

