লন্ডনের নিউহ্যামে গুলিতে ৪২ বছর বয়সী মাসুম মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সী সার্জিউ লেহু। তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। সোমবার ২৪ আগস্ট তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে নিউহ্যামের সেন্ট বার্থোলোমিউস রোডে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ও লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে মাসুম মিয়াকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। জরুরি সেবাকর্মীদের চেষ্টার পরও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে মেট পুলিশের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা। নিহত মাসুম মিয়ার পরিবারকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর ড্যান হুইটেন বলেন, মাসুমের পরিবারের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ধাক্কা সামলে ওঠার সময়ে পুলিশের চিন্তা ও সহমর্মিতা তাদের সঙ্গে রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা উদঘাটনে যাদের কাছে তথ্য রয়েছে, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
তদন্তকারীরা বিশেষভাবে একটি কালো নিশান জিউক গাড়ির সন্ধান করছেন। পুলিশ বলেছে, ১৭ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যা থেকে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে সেন্ট বার্থোলোমিউস রোডের আশপাশে ওই গাড়িটি কেউ দেখে থাকলে তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।
এ ছাড়া ওই সময় এলাকায় থাকা কেউ সন্দেহজনক কোনো ঘটনা দেখে থাকলে, কিংবা তার কাছে ড্যাশক্যাম, সিসিটিভি বা ডোরবেল ক্যামেরার কোনো ফুটেজ থাকলে তা পুলিশের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন, তথ্য ছোট হলেও তা হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিস্থিতি পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সার্জিউ লেহুকে ব্রমলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
পুলিশের কাছে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের ১০১ নম্বরে যোগাযোগ করে CAD 797/18AUG রেফারেন্স নম্বর উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। চাইলে মেজর ইনসিডেন্ট পাবলিক পোর্টালের মাধ্যমেও তথ্য দেওয়া যাবে। এছাড়া বেনামি তথ্য দিতে স্বাধীন সংস্থা Crimestoppers-এ ০৮০০ ৫৫৫ ১১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
সূত্রঃ মেট্রোপলিটন পুলিশ, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
এম.কে

