TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে রাস্তায় রাত কাটানো মানুষের ৫১ শতাংশই ব্রিটিশ ননঃ রিপোর্ট

লন্ডনে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো মানুষের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি যুক্তরাজ্যের নাগরিক নন বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সামাজিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিস (সিএসজে) বলছে, রাজধানীতে গৃহহীনতা ও অভিবাসন সংকট এখন পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে এবং কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সিএসজের প্রকাশিত রাফ স্লিপিং ট্র্যাকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫/২৬ অর্থবছরে লন্ডনের রাস্তায় রাত কাটাতে দেখা যাওয়া এবং যাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা গেছে, তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৬৬৭ জন বা ৫১ শতাংশই অ-ব্রিটিশ নাগরিক। একই সময়ে ব্রিটিশ নাগরিকের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪৭৫ জন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা যায়নি, তাদেরও হিসাবের মধ্যে ধরলে নিশ্চিতভাবে ব্রিটিশ নাগরিক রাফ স্লিপারের হার মাত্র ৪২ শতাংশে নেমে আসে। ২০২১/২২ সালের তুলনায় অজানা জাতীয়তার রাফ স্লিপারের সংখ্যা ১২৭ শতাংশ বেড়েছে, আর গত বছরের তুলনায়ও এই সংখ্যা ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিএসজের আবাসন ও কমিউনিটি বিভাগের প্রধান জশ নিকলসন বলেন, ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় নাগরিকদের মধ্যে রাফ স্লিপিং কমে যাওয়ায় মূল সংকটটি আড়ালে চলে গেছে। তার ভাষায়, লন্ডনে গৃহহীনতা মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি মনে করেন, নতুন সরকারের উচিত সংসদের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দৃশ্যমান পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় লন্ডনে মোট রাফ স্লিপারের সংখ্যা মাত্র ২ শতাংশ কমেছে। তবে একই সময়ে ব্রিটিশ নাগরিক রাফ স্লিপারের সংখ্যা আরও ১৩ জন বেড়েছে এবং ২০২১/২২ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৮ শতাংশ বা ১ হাজার ৫২১ জন বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, দীর্ঘমেয়াদি গৃহহীনতা এখন আরও স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। বর্তমানে রাস্তায় থাকা প্রতি চারজনের একজন অন্তত টানা দুই বছর ধরে একই অবস্থায় রয়েছেন। দুই বছর আগে এই হার ছিল ২০ শতাংশ, যা এখন বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, গত বছরে রাফ স্লিপারদের মাত্র ১৬ শতাংশ স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পেয়েছেন।

প্রতিবেদনে অভিবাসী গৃহহীনতার বিষয়টিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত বছরে এক হাজারেরও বেশি নতুন রাফ স্লিপার আশ্রয়প্রার্থী আবাসন থেকে রাস্তায় এসেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এছাড়া প্রায় ৯৪৬ জন অনথিভুক্ত অভিবাসীও লন্ডনের রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়েছে।

সিএসজের দাবি, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন এবং আশ্রয়ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বিদ্যমান জনসেবা ও আবাসন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ডেগেনহ্যাম অ্যান্ড রেইনহ্যামের লেবার পার্টির সংসদ সদস্য মার্গারেট মুলেন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই স্টেশন ও প্রধান সড়কের পাশে রাফ স্লিপার দেখা যায়, যা বিদ্যমান ব্যবস্থার দুর্বলতার স্পষ্ট প্রতিফলন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিএসজে সরকার ও লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খানের প্রতি যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি নেদারল্যান্ডসের আদলে অ-ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ‘রিকানেকশন সার্ভিস’ চালুর সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের অপসারণ এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাবও দিয়েছে।

এছাড়া সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৫ হাজার ৬০০ ব্রিটিশ গৃহহীন ব্যক্তিকে সংসদের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ‘হাউজিং ফার্স্ট’ কর্মসূচির আওতায় স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম জাতীয় পর্যায়ে ‘হাউজিং ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদে গৃহহীনতা কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ও রূপান্তরমূলক উদ্যোগ হতে পারে।

সিএসজে সতর্ক করে বলেছে, অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট গৃহহীনতার সমস্যা সমাধান না করলে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রাফ স্লিপিং অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য এবং লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খানের ২০৩০ সালের মধ্যে রাস্তায় বসবাসের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

এসাইলাম প্রার্থীদের আড়াই বছর পর পর নবায়ন বাধ্যতামূলকঃ ব্রিটেনে বড় নীতি পরিবর্তন

যুক্তরাজ্যে দৈনিক গড়ে ১০০ জন কোভিডে মারা যাচ্ছেন

লন্ডনে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি অবস্থা ঘোষণা