ব্রিটেনে লেবার পার্টির এমপি নওশাবাহ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হওয়ার পর ট্রোলদের ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তাকে লক্ষ্য করে করা বিভিন্ন বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের জবাব দিতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।
গিলিংহাম ও রেইনহামের সংসদ সদস্য নওশাবাহ খানের বিরুদ্ধে অনলাইনে কিছু ব্যক্তি তার জাতিগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিদেশি হিসেবে তাকে আক্রমণ করেন। এমনকি তাকে ‘বাড়ি ফিরে যাওয়ার’ পরামর্শও দেওয়া হয়।
তবে এসব মন্তব্যের জবাবে নওশাবাহ খান আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার না করে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গি বেছে নেন। ভিডিওতে তিনি তাকে উদ্দেশ করে করা মন্তব্যগুলো তুলে ধরেন এবং পরে ‘বাড়ি ফিরে যাও’ মন্তব্যের জবাবে বলেন, “আমি ইতোমধ্যেই বাড়িতে আছি। সেটি গিলিংহাম।”
তার এই সংক্ষিপ্ত জবাবের মধ্য দিয়ে নওশাবাহ খান বোঝাতে চেয়েছেন, গিলিংহামই তার নির্বাচনী এলাকা এবং সেখানকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করাই তার রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ণবাদী মন্তব্যের মুখেও নিজের স্থানীয় পরিচয় ও এলাকার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি তিনি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন।
ঘটনাটি ব্রিটেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অনলাইনে জাতিগত পরিচয়, ধর্ম ও অভিবাসন-সম্পর্কিত বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য নতুন নয়। তবে নওশাবাহ খানের ক্ষেত্রে এসব মন্তব্যের সরাসরি পাল্টা জবাব দেওয়ার ধরনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
নওশাবাহ খানের প্রতিক্রিয়ায় একই সঙ্গে প্রতিবাদ ও রসবোধের সমন্বয় দেখা গেছে। তিনি মন্তব্যকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ বিতর্কে না গিয়ে তাদের বক্তব্যকেই নিজের জবাবের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে ‘বাড়ি ফিরে যান’ মন্তব্যের বিপরীতে গিলিংহামকে নিজের বাড়ি হিসেবে উল্লেখ করা তার জবাবের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে।
ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী আচরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি কেন। নওশাবাহ খানের ঘটনাটি সেই বাস্তবতারই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
লেবার পার্টির এমপি নওশাবাহ খানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাকে লক্ষ্য করে করা এসব মন্তব্যের মধ্যে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা থেকে শুরু করে ‘বাড়ি ফিরে যাওয়ার’ মতো মন্তব্যও ছিল।
কিন্তু অনলাইনে পাওয়া এসব আক্রমণ উপেক্ষা না করে সেগুলোর জবাব দিয়েছেন নওশাবাহ খান। একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে তিনি তাকে উদ্দেশ করে করা মন্তব্যগুলো পড়ে শোনান এবং এরপর মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
নওশাবাহ খান গিলিংহাম ও রেইনহামের সংসদ সদস্য। তার বিরুদ্ধে অনলাইনে আসা মন্তব্যগুলোকে বিদেশিবিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এসব মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি সরাসরি সংঘাতের পথে না গিয়ে ব্যঙ্গ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জবাব দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন।
তার বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল ‘বাড়ি’ শব্দটির ব্যবহার। তাকে যেখানে তার পরিচয়ের কারণে ব্রিটেন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, সেখানে তিনি নিজের নির্বাচনী এলাকাকেই বাড়ি হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় গিলিংহামের মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডাউন
এম.কে

