পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিশেষ করে সেহরির সময় ইষ্ট লন্ডনের ইলফোর্ড, গ্রিন স্ট্রিট এবং ওয়েস্ট লন্ডনের এজওয়্যার রোড এলাকায় দেখা যাচ্ছে ব্যতিক্রমী প্রাণচাঞ্চল্য। প্রবাসী বাঙালি, পাকিস্তানি, আরবসহ বিভিন্ন মুসলিম কমিউনিটির মানুষের সুবিধার্থে শত শত রেস্তোরাঁ ফজরের আগ পর্যন্ত খোলা রাখছে তাদের দরজা।
রমজান মাসে মধ্যরাতের পর থেকেই এসব এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে। অনেকের কাছে এই দৃশ্য যেন এক টুকরো ঢাকা কিংবা করাচির রাতের খাবারের পরিবেশকে মনে করিয়ে দেয়। পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে দল বেঁধে মানুষ সেহরি খেতে বের হচ্ছেন। ফলে রেস্তোরাঁগুলো রাতভর সরগরম থাকছে এবং পুরো এলাকা পরিণত হচ্ছে এক ধরনের রমজানের নাইট লাইফে।
ঐতিহ্যবাহী দেশি খাবারের জন্য ইষ্ট লন্ডন বরাবরই প্রবাসীদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। গ্রিন স্ট্রিটের জনপ্রিয় আল আরবাব রেস্তোরাঁ এখন সেহরির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
তাদের বিশেষ নিহারি পায়া এবং গরম তন্দুরি পরোটা খেতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। একইভাবে ইলফোর্ড লেনের খবা পরোটা হাউস দেশি পরোটা, হালুয়া-পুরি এবং স্ট্রিট ফুডের স্বাদের জন্য ভোজনরসিকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
যারা বৈচিত্র্যময় খাবার পছন্দ করেন, তাদের জন্য ইলফোর্ডের কাহানি রেস্তোরাঁ আয়োজন করেছে বিশেষ সেহরি বুফে। এখানে হালুয়া-পুরি, চানা, বিভিন্ন ধরনের কারি এবং গরম চা একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট লন্ডনের দ্য টেরেস বেকারি এবং বেইত এল জায়তুন তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব রেস্তোরাঁয় লেবানিজ ধাঁচের মানাকীশ এবং তাজা মেজে দিয়ে সেহরি পরিবেশন করা হচ্ছে, যা ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে গ্রাহকদের।
শুধু দেশি খাবারই নয়, ওয়েস্টার্ন স্টাইলের সেহরিও পাওয়া যাচ্ছে লন্ডনের কিছু রেস্তোরাঁয়। হ্যামারস্মিথ এবং শেফার্ডস বুশ এলাকায় অবস্থিত শিকাগো গ্রিল হালাল চিজস্টেক এবং প্রিমিয়াম বার্গারের জন্য পরিচিত। যারা সেহরিতে ভিন্ন স্বাদের খাবার পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
সেহরির সময় এসব এলাকায় মানুষের সমাগম এতটাই বেড়ে যায় যে অনেক সময় পার্কিং পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা জানিয়েছেন, ভিড় এড়াতে অনেকেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা ট্যাক্সি ব্যবহার করছেন। সাধারণত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে রেস্তোরাঁগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়।
প্রবাসীদের কাছে এই সেহরি আয়োজন কেবল খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি রমজানের রাতে সামাজিক বন্ধন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা একসঙ্গে বসে সেহরি করার মাধ্যমে প্রবাস জীবনের দূরত্ব ভুলে ভাগ করে নিচ্ছেন এক অনন্য ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি।
লন্ডনে সেহরির জন্য জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে রয়েছে আল আরবাব গ্রিন স্ট্রিটে, কাহানি ইলফোর্ডে, খবা পরোটা হাউস ইলফোর্ড লেনে, দ্য টেরেস বেকারি অ্যাক্টনে এবং শিকাগো গ্রিল হ্যামারস্মিথ ও শেফার্ডস বুশ এলাকায়।
রমজানজুড়ে এসব রেস্তোরাঁ রাতভর খোলা থাকায় প্রবাসী মুসলমানদের কাছে এগুলো হয়ে উঠেছে সেহরির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
সূত্রঃ লন্ডন প্রতিনিধি
যুক্তরাজ্য

