ইউরোপের চারটি দেশে একের পর এক ছয়টি যাত্রীবাহী বিমানে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এসব হুমকির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ফ্লাইটও রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক বিমানকে জরুরি অবতরণ করানো হয় এবং বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
বোমার হুমকির কারণে পোল্যান্ডে দুটি, ইতালিতে দুটি, স্পেনে একটি এবং বুলগেরিয়ায় একটি বিমান জরুরি নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখে পড়ে। এসব ঘটনায় বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় ওয়ারশর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পোলিশ এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানকে মাঝপথে গন্তব্য পরিবর্তন করে ওয়ারশ মডলিন বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। বিমানটিতে ১৮১ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিমানটি অবতরণ করার পর জরুরি সেবা ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সেখানে পৌঁছায়। সকাল ১০টার দিকে বিমানবন্দরটি নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, উড়োজাহাজে বিস্ফোরক থাকার তথ্য পাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। পরে যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর ম্যানচেস্টার থেকে স্পেনের মুরসিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করা রায়ানএয়ারের আরেকটি ফ্লাইটকে ঘিরে পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েন করা হয়। বিমানটিতে ১১৪ জন যাত্রী ছিলেন। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে অবতরণের পর যাত্রীদের সরিয়ে নিয়ে বিমানটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
ফ্লাইটটির এক যাত্রী বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে জানান, বিমান অবতরণের আগ পর্যন্ত যাত্রীদের জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। অবতরণের এক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। পরে যাত্রীদের জানানো হয়, বিমানটিকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
একই সময়ে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন থেকে পোল্যান্ডগামী আরেকটি বিমানও বোমার হুমকির কারণে ওয়ারশর শপিন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটির একজন যাত্রী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, পাইলট তাদের জানিয়েছিলেন যে উড়োজাহাজটিকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানটির কাছাকাছি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। পরিস্থিতির কারণে শপিন বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়।
এদিকে ইতালির বার্গামো থেকে আসা একটি বিমান বোমার হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমেইলের মাধ্যমে হুমকিটি পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব লিউবোমির নিকোলভ জানান, সম্ভাব্য বিস্ফোরক শনাক্ত করতে বিমানটিতে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট তল্লাশি চালায়।
অন্যদিকে, ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরেও দুটি রায়ানএয়ার ফ্লাইটে বিস্ফোরক থাকার বিষয়ে বেনামি তথ্য পাওয়া যায়। একটি ফ্লাইট পর্তুগালের লিসবন এবং অন্যটি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে আসছিল। খবর পেয়ে ইতালির বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান দুটি উড়োজাহাজকে অবতরণ পর্যন্ত পাহারা দিয়ে নিয়ে আসে। যাত্রী ও ক্রুরা নেমে যাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তল্লাশি চালান। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি ফ্লাইটকে বোমা হামলার হুমকির কারণে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে।
এর আগে সোমবার লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে সোফিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া উইজ এয়ারের একটি ফ্লাইট বোমার হুমকি পাওয়ার পর গতিপথ পরিবর্তন করে হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
হাঙ্গেরির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোমুলুস রাসিন-সেন্দি জানান, বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণে সহায়তা করতে দেশটির গ্রিপেন যুদ্ধবিমান কয়েক মিনিটের মধ্যেই মোতায়েন করা হয়। ন্যাটোর বিমান প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ব্যবস্থার অধীনে ‘আলফা’ সতর্কতা জারির পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
তবে এসব ঘটনায় কোনো বিমানে প্রকৃত বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সূত্রঃ দ্য সান ও বিবিসি
এমকে

