TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শাবানা মাহমুদের অভিবাসন সংস্কারে ক্ষুব্ধ নার্সিং নেতারাঃ নিয়ম শিথিলের দাবি

ব্রিটেনে অভিবাসন নীতির প্রস্তাবিত সংস্কারে কেয়ার খাতে কর্মরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ কিংবা ১৫ বছর করার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন রয়্যাল কলেজ অব নার্সিংয়ের প্রধান অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার। তার মতে, এই পরিকল্পনা অযৌক্তিক ও অন্যায্য। বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিবাসন সংস্কারের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় এনএইচএসের বাইরে, বিশেষ করে সামাজিক পরিচর্যা বা সোশ্যাল কেয়ার খাতে কর্মরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি যারা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কাজ করছেন, তারাও নতুন নিয়মের আওতায় পড়তে পারেন।

অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার বলেন, এনএইচএসে কর্মরত নার্সদের প্রস্তাবিত পরিবর্তন থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা সরকার বলেছে। একই সুবিধা সামাজিক পরিচর্যা খাত এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব অভিবাসী নার্সের জন্যও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থার সংস্কারকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় নৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে দক্ষ ও পর্যাপ্ত নার্সিং কর্মী প্রয়োজন। অভিবাসী কর্মীদের বাদ দিয়ে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিটেনের সামাজিক পরিচর্যা খাতের মোট কর্মীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদেশ থেকে আসা। এসব কর্মী কর্মীসংকটে থাকা সেবাব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্তদের পরিচর্যায় তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

নিকোলা রেঞ্জার সতর্ক করে বলেন, সামাজিক পরিচর্যা খাতে কর্মীসংকটের কারণে বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমানভাবে সেবা পাচ্ছেন না। এর প্রভাব পড়ছে এনএইচএসের ওপরও। সামাজিক পরিচর্যার ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পরও হাজার হাজার রোগীকে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে।

তার আশঙ্কা, নতুন অভিবাসন সংস্কার কার্যকর হলে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকা হাজার হাজার কর্মী দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন। এতে সামাজিক পরিচর্যা খাতের সংকট আরও বাড়বে এবং সরকারের জাতীয় পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় নার্সিং কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতে কাজ করছেন, তাদের অধিকার সংকুচিত করা যুক্তিসংগত নয়।

কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক রেঞ্জার বলেন, ২০২০ সালে কিংস কলেজ হাসপাতালে প্রধান নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি শত শত অভিবাসী নার্সকে মহামারি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে দেখেছেন। সামাজিক পরিচর্যা খাতেও একইভাবে বিদেশি কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে তাদের অধিকার সংকুচিত করার উদ্যোগ হতাশাজনক।

প্রস্তাবিত সংস্কারের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হিসেবে অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার মতে, এসব কর্মী নিয়মিত কর দেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। অথচ কঠিন পরিস্থিতিতে তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হলে খাদ্য ও বাসাভাড়ার মতো মৌলিক ব্যয় মেটাতেও সমস্যায় পড়তে পারেন।

নিকোলা রেঞ্জার বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিজেই অভিবাসন ব্যবস্থায় ন্যায্যতার নীতির কথা বলেছেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যে আসার সময় যাদের পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের কথা ছিল, তারা কয়েক বছর কাজ করার পর হঠাৎ ১০ বা ১৫ বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য হলে সেটিকে ন্যায্য বলা যায় না। তার ভাষায়, খেলার মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করাই ন্যায্যতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

তিনি শাবানা মাহমুদের প্রতি প্রস্তাবিত সংস্কার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা ব্যবস্থার সব পর্যায়ে কর্মরত অভিবাসী নার্সদের এই পরিবর্তন থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। অন্যথায় পুরো সংস্কার পরিকল্পনা বাতিল করা উচিত।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

আল্টিমেট বিসনেস নেটওয়ার্ক ও একছিলেন্স এওয়ার্ড ২০২৪।

টিকটকে অভিবাসী আটকের ভিডিওঃ মানবাধিকার প্রশ্নে তীব্র সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ সরকার

আবারো বড় ঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে লন্ডন