14.1 C
London
June 6, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশু আশ্রয়প্রার্থীদের বয়স নির্ধারণে এআই ব্যবহারে যুক্তরাজ্য সরকারের পরিকল্পনা

আশ্রয়প্রার্থী শিশু ও কিশোরদের বয়স নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের যুক্তরাজ্য সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শতাধিক শরণার্থী ও শিশু অধিকার সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য পক্ষপাতের কারণে বহু প্রকৃত শিশুকে ভুলভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে, যার ফলে তারা প্রাপ্তবয়স্কদের আবাসন, আটককেন্দ্র কিংবা কারাগারে পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

শুক্রবার যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয় যে, যেসব তরুণ আশ্রয়প্রার্থীর বয়স নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তাদের বয়স নির্ধারণে মুখমণ্ডল বিশ্লেষণভিত্তিক এআই প্রযুক্তি চালুর জন্য একটি চুক্তি দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রযুক্তি ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে সহায়ক হবে এবং যারা মিথ্যা বয়স দাবি করে শিশু হিসেবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তবে জুন মাসে প্রকাশিতব্য শরণার্থী ও অভিবাসী শিশু বিষয়ক কনসোর্টিয়ামের এক প্রতিবেদনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। “বেঞ্চমার্কস অ্যান্ড বর্ডার্স: একাকী আশ্রয়প্রার্থী তরুণদের বয়স নির্ধারণে মুখমণ্ডলভিত্তিক বয়স অনুমান প্রযুক্তির ব্যবহার” শীর্ষক প্রতিবেদিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ, নির্যাতন, অপুষ্টি, মানসিক আঘাত এবং বিপজ্জনক যাত্রার অভিজ্ঞতা একজন তরুণের শারীরিক চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে, যা এআই প্রযুক্তির জন্য সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন।

কনসোর্টিয়াম বলেছে, বয়স নির্ধারণে এআইকে একমাত্র বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বরং এটি সমাজকর্মীদের পরিচালিত পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের সহায়ক উপাদান হিসেবে সীমিত রাখা উচিত। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার অধিকার, আইনি সহায়তা এবং উপযুক্ত প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সীমান্তে অভিবাসন কর্মকর্তাদের করা মূল্যায়নের তুলনায় সমাজকর্মীদের মূল্যায়নে আশ্রয়প্রার্থীরা শিশু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি। মূল্যায়িতদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শেষ পর্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এ তথ্যকে সামনে এনে সংগঠনগুলো বলছে, বর্তমান ব্যবস্থাতেই বহু শিশুকে ভুলভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে; সেখানে প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, বহু বছর ধরে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী মিথ্যা বয়স দাবি করে শিশুদের জন্য নির্ধারিত সহায়তা ব্যবস্থার অপব্যবহার করে আসছে। এআই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং প্রকৃত শিশুদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তবে কনসোর্টিয়ামের সহ-সভাপতি কামেনা ডরলিং বলেন, সংঘাত ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা তরুণদের বাস্তব পরিস্থিতি এআই বিবেচনায় নিতে পারে না। তার মতে, প্রযুক্তিটি মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিদ্যমান পক্ষপাত ও ভুলের সমস্যাগুলোকেও বহন করতে পারে।

রিফিউজি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ নীতিবিশ্লেষক কামা পেত্রুচেঙ্কো বলেন, সরকারের নিজস্ব তথ্যই প্রমাণ করে যে বর্তমানে শত শত শিশুকে ভুলভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন পদ্ধতিকে শুধু স্বয়ংক্রিয় করা হয়, তাহলে আরও বেশি শিশু ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের আটককেন্দ্র বা কারাগারে চলে যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডোভারে ছোট নৌকায় আগত ব্যক্তিদের ইতোমধ্যে তোলা মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বয়স অনুমান করতে সক্ষম হবে নতুন প্রযুক্তি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিন বছরের মেয়াদে ৩ লাখ ২২ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি চুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে চালুর আগে প্রযুক্তিটি আরও পরীক্ষা ও উন্নয়নের মধ্য দিয়ে যাবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে এর নির্ভুলতা, পক্ষপাতমুক্ততা এবং শিশু সুরক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত না করা হলে এর মানবিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। ফলে আশ্রয়প্রার্থী শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যেকোনো প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডন পুলিশের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী, নারী ও সমকামীতা বিদ্বেষীর তকমা

পাকিস্তানে গোপন কসাইখানাঃ ৫০টি গাধা ও ১০০০ কেজি মাংস জব্দ

স্কিলড ওয়ার্কারদের জীবনে অনিশ্চয়তাঃ যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দূরে