লন্ডনের বেডফোর্ডে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসা এক ইরানি কিশোর, দেশে প্রবেশের মাত্র তিন মাসের মধ্যে একই স্কুলের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেও কারাদণ্ড এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর গত বছরের জুন মাসে একা অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী হিসেবে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে। পরে তাকে ফস্টার কেয়ারে রাখা হয়। আইনগত কারণে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
শুনানিতে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে বেডফোর্ডশায়ারে একই স্কুলে পড়ুয়া আরেক ১৪ বছর বয়সী কিশোরীর ওপর সে যৌন হামলা চালায়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করলে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাকে ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে আদালত তার সাজা ঘোষণা করে। তবে কিশোর বিচারব্যবস্থার নীতিমালা অনুযায়ী কারাদণ্ডকে ‘সর্বশেষ বিকল্প’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে তাকে কিশোর সংশোধনাগার বা কারাগারে পাঠানো হয়নি।
এর পরিবর্তে আদালত তাকে একটি বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যেখানে সম্মতি, সম্পর্কের সীমারেখা এবং যৌন আচরণ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়।
এই রায় প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—এত গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কেন কঠোর শাস্তি দেওয়া হলো না। বিশেষ করে লন্ডন ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর অপরাধ, যৌন সহিংসতা এবং অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে অভিবাসী প্রবেশ, আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অপরাধ দমনে নরম অবস্থান—সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্তদের ক্ষেত্রে শাস্তি যথেষ্ট কঠোর না হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

