ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, সিলেট নগরীর যানজট কমাতে বাইপাস ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এসব অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সিলেট যাতায়াতের সময় কমানো, নগরীর ভেতরে যানবাহনের চাপ হ্রাস এবং পর্যটন খাতে যোগাযোগ সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে সরু সড়ক, যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, বিভিন্ন স্থানে যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভুলতা, নরসিংদী, ভৈরব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের যানজটের কারণে অনেক সময় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় পথে আটকে থাকতে হয়। সিলেট শহরে প্রবেশের পর আম্বরখানা, কদমতলী বাস টার্মিনাল ও তেমুখী এলাকার যানজটও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ায়।
প্রস্তাবিত ও চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো মহাসড়কের ধারণক্ষমতা বাড়ানো, দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচল সহজ করা এবং নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোর ওপর চাপ কমানো। তবে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অগ্রগতি, অনুমোদিত নকশা, অর্থায়নের পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনায় মূল সড়কের পাশাপাশি সার্ভিস লেন, সেতু, কালভার্ট ও উড়ালসড়কের মতো অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। এসব অবকাঠামো পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত হলে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে। একই সঙ্গে সড়কের সক্ষমতা বাড়লে পণ্য পরিবহন, যাত্রী চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সিলেট নগরীর যানজট নিরসনে বাইপাস ও বিকল্প সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বাদাঘাট, খাদিমনগর, সাহেববাজার ও লাক্কাতুরা-সংলগ্ন এলাকার সম্ভাব্য সড়ক সংযোগ নিয়ে যে পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ না করেই কিছু যানবাহন গন্তব্যের দিকে যেতে পারবে। এতে বিশেষ করে দূরপাল্লার যানবাহন ও পর্যটকদের গাড়ির জন্য বিকল্প পথ তৈরির সুযোগ থাকবে।
পর্যটন খাতের ক্ষেত্রেও উন্নত সড়ক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। সাদা পাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলংয়ের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে যেতে সিলেট নগরীর যানজট এড়িয়ে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলে পর্যটকদের সময় ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমতে পারে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক এবং চারটি বড় সেতু নির্মাণের যে তথ্য উল্লেখ করা হচ্ছে, তার প্রকল্পের নাম, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারকারী প্রবাসীদের জন্যও উন্নত সড়ক যোগাযোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। বিমানবন্দর থেকে বিকল্প সড়ক ও বাইপাসের কার্যকর সংযোগ তৈরি হলে নগরীর ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে এসব গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার বিবরণে পুরো সড়ক নেটওয়ার্কে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট ও চারটি উড়ালসড়ক নির্মাণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মহাসড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হচ্ছে।
সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে সিলেটের সঙ্গে ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসতে পারে। তবে প্রত্যাশিত সুফল নির্ভর করবে প্রকল্পগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, সময়মতো কাজ শেষ করা, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগরীর ভেতরে বিকল্প সড়কগুলোর সমন্বিত ব্যবহারের ওপর।
সূত্রঃ বাসস
এমকে

