দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে এবং এ ঘটনায় কারও গাফিলতি বা অবহেলা রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানে কেন একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে হামে মারা যাওয়া শিশুদের পরিবারকে কেন পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালত মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম জনস্বার্থে এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে অভিযোগ করা হয়, হামের টিকা ক্রয়ে অনিয়ম, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং সরকারি পর্যায় থেকে বেসরকারি খাতে টিকা স্থানান্তরের মতো ঘটনায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলেই বহু শিশু সময়মতো টিকা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রাণ হারানোর মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে রিটে দাবি করা হয়।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, দেশে বর্তমানে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা, টিকাদানে ঘাটতি ও তদারকির অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক উপদেষ্টাসহ মোট ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল রিটে। তবে এ বিষয়ে আদালতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
আইনজীবীরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রশ্নে হাইকোর্টের এই রুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশু মৃত্যুর ঘটনা শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাই নয়, বরং টিকাদান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো এমআর টিকার দুই ডোজ নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্রঃ ইত্তেফাক
এম.কে

