20.4 C
London
September 11, 2026
TV3 BANGLA
শীর্ষ খবরস্পোর্টস

তিন দেশে তিন মঞ্চে বিশ্বকাপের উদ্বোধনঃ আলো, সুর ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক মহোৎসব

ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবার প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আয়োজক দেশের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বদলে গেছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রচলিত রীতিও। এবার আর একটি শহরে সীমাবদ্ধ থাকছে না বিশ্বকাপের উদ্বোধনী উৎসব; বরং তিনটি দেশে তিনটি পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসরের পর্দা উঠবে।

প্রতিটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজক দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও শিল্প ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হবে। তবে বৈচিত্র্যের মধ্যেও মূল বার্তা থাকবে একটিই—ফুটবল বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনের সেতুবন্ধন তৈরি করে।

বিশ্বকাপের প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে মেক্সিকোর আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং দেশটির বিখ্যাত কাগজভিত্তিক শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’-এর বর্ণিল উপস্থাপনা স্থান পাবে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিবেশিত হবে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সংগীত ‘ডাই ডাই (লেটস গো)’, যেখানে কণ্ঠ দেবেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ার সংগীতশিল্পী বার্না বয়। প্রায় ১৬ থেকে ১৭ মিনিটব্যাপী এই আয়োজন শেষে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকো মাঠে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

পরদিন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এ আয়োজনে বিশাল কাউন্টডাউনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠবে। কানাডার বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থা, ইতিহাস এবং অর্জনের নানা দিক তুলে ধরা হবে আধুনিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, নোরা ফাতেহি, মাইকেল বুবলে এবং সঞ্জয়সহ আরও অনেক তারকা। প্রায় ১৩ মিনিটের অনুষ্ঠান শেষে রাত ১টায় কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী আয়োজন হবে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর। লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে থাকবে অত্যাধুনিক এলইডি ভিজ্যুয়াল প্রজেকশন, গল্পনির্ভর পরিবেশনা এবং বিশাল লাইট শো। মঞ্চ মাতাবেন বিশ্বসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী কেটি পেরি, লিসা, অ্যানিত্তা, রেমা, ফিউচার ও টাইলার। এই অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হবে প্যারাগুয়ে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একসময় শুধুই আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে শাকিরার পরিবেশিত ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ বিশ্বব্যাপী যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে, তার পর থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান একটি বৈশ্বিক বিনোদন উৎসবে পরিণত হয়। যদিও ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ডায়ানা রসের প্রতীকী পেনাল্টি কিক দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল, তবুও শাকিরার পরিবেশনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। সেই স্মৃতিকে আবারও জীবন্ত করতে এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চেও ফিরছেন এই বিশ্বখ্যাত শিল্পী।

তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সৃজনশীল ও প্রযোজনা দায়িত্বে রয়েছেন অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য সুপরিচিত ইতালীয় প্রযোজক মার্কো বালিচ। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা, শিল্পরীতি ও সাংস্কৃতিক আবহ ভিন্ন হলেও তাদের অভিন্ন দর্শন একটাই—ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে, ভেদাভেদ ভুলিয়ে দেয় এবং পৃথিবীকে একই মঞ্চে নিয়ে আসে।

তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন শুধু ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি হয়ে উঠছে বৈশ্বিক সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও মানবিক সংযোগের এক অনন্য উদযাপন। তিন দেশে তিন মঞ্চে ছড়িয়ে পড়া এই উৎসবের মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করবে ফুটবলের সেই চিরন্তন শক্তিকে, যা ভাষা, জাতি ও সীমানার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে মানুষকে একসূত্রে গেঁথে দেয়।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

Proof of income for property mortgage

কোরআন শিখছেন আলোচিত সেই রুশ জেনারেল

ব্রিটিশ রানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাইডেন