TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

হোটেলে আশ্রয়প্রার্থী, রাস্তায় ব্রিটিশ নাগরিক—যুক্তরাজ্যে গৃহহীনতা নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সরকারি আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও বহু গৃহহীন ব্রিটিশ নাগরিক এখনো রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন—এমন অভিযোগকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় গৃহহীন মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেকেই মনে করছেন সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের তুলনায় দীর্ঘদিনের ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রয়োজনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না।

দ্য সানের প্রতিবেদনে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার, লেস্টার স্কয়ার, চারিং ক্রসসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা গৃহহীনদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাদের অনেকেই বলেছেন, ব্যক্তিগত সংকট, সম্পর্ক ভাঙন, কারাদণ্ড শেষে মুক্তি বা পারিবারিক সমস্যার কারণে তারা গৃহহীন হয়েছেন, কিন্তু সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করছেন।

৬২ বছর বয়সী ব্র্যাডলি জানান, মায়ের মৃত্যুর পর কাউন্সিলের বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়ে তিনি রাস্তায় চলে আসেন। অন্যদিকে সাবেক শেফ পল, যিনি একসময় কুইন মাদারের জন্য রান্না করেছিলেন বলে দাবি করেন, এখন ওয়েস্টমিনস্টার স্টেশনের বাইরে খাবারের জন্য মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করছেন। তাদের অভিযোগ, যাদের মাদকাসক্তি বা অন্য বিশেষ ঝুঁকির বিষয় নেই, তারা প্রায়ই “প্রায়োরিটি নিড” হিসেবে বিবেচিত হন না।

প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে নতুন করে আশ্রয়প্রার্থীরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছাচ্ছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এসব আশ্রয়প্রার্থীকে প্রথমে ম্যানস্টন প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয় এবং পরে তাদের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত হোটেল, এইচএমও বা সাবেক সামরিক স্থাপনায় রাখা হয়, যতক্ষণ না তাদের আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তি হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের শেষে প্রায় ৯৪ হাজার আশ্রয়প্রার্থী সরকারি অর্থায়নে আবাসন সুবিধা পাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডে একটি সাধারণ শরৎ রাতের হিসাবে ৪,৭৯৩ জন মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, রাস্তায় থাকা মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ব্রিটিশ নাগরিক।

আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যয় নিয়েও আলোচনা বেড়েছে। সংসদীয় তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আশ্রয় ব্যবস্থা পরিচালনায় ৪.৯ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে ২.৭ বিলিয়ন পাউন্ড ছিল আবাসন খাতে। অন্যদিকে, গৃহহীনতা মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত ৩৪০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ক্ষমতায় এসে রাফ স্লিপিং বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর সংকট দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১,২০০টি নতুন আবাসনের ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি গৃহহীনদের জন্য নিবিড় সহায়তা কর্মসূচি চালুর কথা জানানো হয়েছে।

তবে গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা সেন্ট মাঙ্গোস বলছে, শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, গৃহহীন মানুষের চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন এবং সরকার, স্থানীয় কাউন্সিল, এনএইচএস ও সামাজিক সেবার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

এই বিতর্কের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—আশ্রয়প্রার্থীরা সরকারি আশ্রয় ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা পান, আর গৃহহীন ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী “প্রায়োরিটি নিড” মূল্যায়নের ভিত্তিতে জরুরি আবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দুই ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়ে জনমত ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

ক্ষতিপূরণের ফাঁদে ব্রিটেনের মাদার অ্যান্ড বেবি হোমের বেঁচে থাকা ভুক্তভোগীরা

যুক্তরাজ্যে “মোবাইল-মুক্ত স্কুল”- আইন তৈরি করতে কাজ করছে সরকার

১৯ জুলাই ইংল্যান্ডে করোনার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

অনলাইন ডেস্ক