যুক্তরাজ্যে প্রতিবেশীর সিগারেটের ধোঁয়া যদি নিয়মিত আপনার বাড়িতে ঢুকে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে বা স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা আইন ১৯৯০ অনুযায়ী, এমন অভিযোগকে কাউন্সিল তদন্ত করে ‘স্ট্যাচুটরি নিউস্যান্স’ বা আইনগত জনদুর্ভোগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ধোঁয়া তখনই স্ট্যাচুটরি নিউস্যান্স হিসেবে গণ্য হবে, যখন তা কোনো বাড়ির স্বাভাবিক ব্যবহার ও উপভোগে অযৌক্তিক এবং উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি করবে, অথবা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে বা ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অ্যাবেটমেন্ট নোটিশ জারি করা হবে, যাতে ধোঁয়া বন্ধ বা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অভিযোগ করার আগে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা উচিত। ধোঁয়া কখন এসেছে, কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছে, কতটা তীব্র ছিল এবং এতে হাঁপানি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েছে কি না—এসব তথ্য লিখিতভাবে সংরক্ষণ করলে তদন্তে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আপনি যদি ভাড়া বাসায় থাকেন এবং প্রতিবেশীও সামাজিক বা বেসরকারি ভাড়াটিয়া হন, তাহলে তাদের বাড়িওয়ালা বা ভবনের ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছেও অভিযোগ করা যায়। অনেক ভাড়ার চুক্তিতে প্রতিবেশীকে বিরক্ত না করার শর্ত থাকে, যা প্রয়োগ করা সম্ভব।
তবে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিজের বাড়ি বা বাগানে ধূমপান করা সাধারণভাবে বৈধ এবং এটিকে যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সেই ধোঁয়া যদি নিয়মিত পাশের বাড়িতে গিয়ে গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কাউন্সিল তদন্ত করতে পারে।
কাউন্সিলের পরিবেশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিযোগ মূল্যায়নের সময় ধোঁয়ার পরিমাণ, কত ঘনঘন আসে, কতক্ষণ স্থায়ী হয় এবং সেটি কতটা অযৌক্তিকভাবে অন্যের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে—এসব বিষয় বিবেচনা করেন।
এদিকে, প্রতিবেশী যদি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ আপনার বাগান বা যৌথ ব্যবহারের জায়গায় ফেলে, তাহলে সেটি লিটারিং হিসেবে অভিযোগ করা যায়। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে বলে আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে

