TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অঘোষিত উপহার তদন্তে চাপে নাইজেল ফারাজঃ ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বলে আক্রমণ রিফর্ম ইউকের

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজকে ঘিরে চলা পার্লামেন্টারি তদন্তকে কেন্দ্র করে। অঘোষিত উপহার গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তকে রিফর্ম ইউকের এমপি সারা পোচিন প্রকাশ্যে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, গণমাধ্যম, ব্রিটিশ রাষ্ট্র এবং প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো রিফর্ম ইউকেকে ঠেকাতে সমন্বিত ও মরিয়া প্রচারণা চালাচ্ছে।

রানকর্নের এমপি সারা পোচিন বলেন, পার্লামেন্টের তদন্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে নাইজেল ফারাজ ক্ল্যাকটন আসনে উপনির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে তুলে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, একসময় কনজারভেটিভ পার্টির সবচেয়ে নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত ক্ল্যাকটনে এবার ফারাজের বিরুদ্ধে দলটি প্রার্থী দেয়নি, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।

এর আগে নাইজেল ফারাজও অভিযোগ করেছিলেন, পার্লামেন্টের মানদণ্ডবিষয়ক তদন্ত ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সারা পোচিনের বক্তব্য আরও কঠোর। তার দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষ নয় এবং এর ফলাফল আগেই নির্ধারিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য পার্লামেন্টের মানদণ্ড তদারকি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের শামিল।

বর্তমানে পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার তদন্ত করছেন, গত সাধারণ নির্বাচনের আগে থাইল্যান্ডভিত্তিক ব্যবসায়ী ক্রিস্টোফার হারবর্নের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের উপহার ফারাজের ঘোষণা করা উচিত ছিল কি না। ফারাজের দাবি, ওই অর্থ তিনি রাজনীতিতে ফেরার আগেই পেয়েছিলেন এবং সেটি সম্পূর্ণ নিঃশর্ত উপহার হওয়ায় ঘোষণা করার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।

পরবর্তীতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতারণার মামলায় দণ্ডিত ফারাজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জর্জ কটরেলের দেওয়া আবাসন সুবিধা এবং ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও নির্মাণে তার অর্থায়নের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব সুবিধাও পার্লামেন্টে ঘোষণা করা প্রয়োজন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি এক পডকাস্টে নাইজেল ফারাজ বলেন, তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়েছেন এবং সেই পরামর্শ অনুযায়ী ৫০ লাখ পাউন্ডের উপহার ঘোষণা করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। তার ভাষ্য, উপহারটি ছিল সম্পূর্ণ নিঃশর্ত এবং সে বিষয়ে লিখিত নথিও রয়েছে।

পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমপি হওয়ার আগের ১২ মাসের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রাপ্ত উপহার বা সুবিধা ঘোষণা করতে হয়। তদন্তে যদি ফারাজের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়, তবে তার আসনে রিকল পিটিশন শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাকে দ্বিতীয়বারের মতো উপনির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

বর্তমানে ক্ল্যাকটনের উপনির্বাচনে ত্রিশের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন বয়কট করেছে। তবে ভবিষ্যতে রিকল পিটিশনের কারণে আরেকটি উপনির্বাচন হলে ফারাজের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান দলগুলো। ফলে তদন্তের ফলাফল শুধু ফারাজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অনলাইন ফার্মেসির ওজন কমানোর ইনজেকশন বিক্রিতে কঠোর নিয়ম

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় ভাতা দিয়ে ফুলও কেনা যাবে নাঃ কড়াকড়ি নিয়ম চালু করল ব্রিটিশ সরকার

ভারতে যেতে ভয় পাচ্ছেন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কেবিন ক্রুরা