TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অপরাধচক্রের নতুন টার্গেট যুক্তরাজ্যের ভাড়াবাসাঃ বাড়ছে হোয়াইটচ্যাপেলে চুরিও

যুক্তরাজ্যের ভাড়াবাসা এখন সংগঠিত অপরাধচক্রের নতুন টার্গেটে পরিণত হয়েছে। ভুয়া পরিচয়, জাল চাকরির কাগজপত্র এবং নকল রেফারেন্স ব্যবহার করে অপরাধীরা বৈধ ভাড়াটিয়ার ছদ্মবেশে ফ্ল্যাট ও বাড়ি ভাড়া নিচ্ছে। এরপর সেই সম্পত্তিগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক উৎপাদন, অবৈধ যৌন ব্যবসা, অবৈধ সাবলেটিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে।

বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানের জন্য সাংবাদিক হ্যাজেল মার্টিনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকরা স্বনামধন্য টেন্যান্সি রেফারেন্সিং এজেন্সির মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করিয়েও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অপরাধীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জাল পরিচয়পত্র, ভুয়া কর্মসংস্থানের তথ্য এবং নকল রেফারেন্স তৈরি করে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য ভাড়াটিয়া হিসেবে উপস্থাপন করছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি ফ্ল্যাটকে পুরোপুরি মাদক উৎপাদনের কারখানায় রূপান্তর করা হয়েছিল। আরেকটি সম্পত্তি ব্যবহার করা হয়েছে অবৈধ যৌন ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে। অন্য একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার পর অনুমতি ছাড়াই একাধিক ব্যক্তির কাছে সাবলেট করা হয় এবং পরে সম্পত্তিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন মালিক।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনা জানার পরও সম্পত্তির মালিকদের দ্রুত নিজেদের বাড়ি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার কারণে উচ্ছেদে মাসের পর মাস সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অপরাধচক্র সম্পত্তির আরও ক্ষতি করে, ভাড়া পরিশোধ করে না এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর শাস্তি ছাড়াই সরে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে মালিকদের আর্থিক ক্ষতি, আইনি ব্যয় এবং মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকাতেও চুরি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির খবর সামনে এসেছে। স্যোশাল মিডিয়াতে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এলাকায় দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবনে চুরির ঘটনা বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের আরও কার্যকর টহল ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভাড়াবাসায় সংগঠিত অপরাধচক্রের অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি-সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধি যুক্তরাজ্যের জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তারা বলছেন, শুধু পরিচয় যাচাই করলেই যথেষ্ট নয়; টেন্যান্সি যাচাই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, জাল নথি শনাক্তে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সন্দেহজনক আবেদন দ্রুত চিহ্নিত করার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, আদালতের মাধ্যমে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই ধরনের প্রতারণা ও অপরাধ আরও বিস্তৃত হতে পারে। বর্তমানে বাড়িওয়ালা, লেটিং এজেন্সি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই এই নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রাইম লন্ডনে সম্পত্তির দরপতন, সাশ্রয়ী এলাকায় উল্টো চিত্র

যুক্তরাজ্য এইবার সৈন্য পাঠাবে গাজায়

বৃটেনের রাস্তায় রুঢ় আচরণের শিকার ঋষি সুনাক