TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অভিবাসনের কারণে যুক্তরাজ্যে গৃহযুদ্ধ আসন্নঃ এলন মাস্ক

যুক্তরাজ্যে উচ্চমাত্রার অভিবাসন এবং সামাজিক বিভাজন নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও এক্স (সাবেক টুইটার), টেসলা এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক। তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিশ্বাস ধারণকারী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য একটি বড় ধরনের সামাজিক “হিসাব-নিকাশ” বা সংঘাতের মুখোমুখি হতে পারে।

দ্য ইকোনমিস্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, যদি একটি দেশে এমন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যাদের বিশ্বাস পশ্চিমা সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধের বিপরীত, তাহলে একসময় গুরুতর সামাজিক সংঘাত দেখা দিতে পারে। তিনি এর আগে ব্রিটেনে “গৃহযুদ্ধ অনিবার্য” বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, সেই অবস্থান থেকেও সরে আসেননি।

মাস্ক জানান, তিনি বহুবার যুক্তরাজ্য সফর করেছেন এবং দেশটির সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, সর্বশেষ সফর ছিল কয়েক বছর আগে।

সাক্ষাৎকারে তার মন্তব্যকে বর্ণবাদী হিসেবে দেখা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাস্ক তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং তাদের চার সন্তান রয়েছে। এমনকি একজন সন্তানের নাম একজন বিখ্যাত ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানীর নামে রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মানুষ উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন।

মুসলিমবিরোধী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাস্ক বলেন, তিনি কোনো ধর্মের বিরোধী নন; বরং এমন মতাদর্শের বিরোধী, যা পশ্চিমা সমাজের আইন, মূল্যবোধ ও সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, তিনি ধর্ষণ, হত্যা এবং পশ্চিমা সমাজের প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধের পরিপন্থী আইন বা নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে।

মাস্ক আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমা সভ্যতার সামনে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, মূলধারার অনেক সংবাদমাধ্যম তা যথাযথভাবে স্বীকার করতে অনিচ্ছুক। তার ভাষায়, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

গত বছর সাউথপোর্টে শিশু হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাজজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হলে মাস্ক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, “গৃহযুদ্ধ অনিবার্য।” সে সময় প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার মুসলিম সম্প্রদায় ও মসজিদে হামলার নিন্দা জানালে মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, “সব সম্প্রদায়ের ওপর হামলা নিয়েও কি সমান উদ্বেগ থাকা উচিত নয়?” পরে তিনি স্টারমারকে “টু-টিয়ার কিয়ার” বলেও আখ্যায়িত করেন।

তবে ডাউনিং স্ট্রিট মাস্কের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানায়, যুক্তরাজ্যে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সহিংসতা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান ব্রিটিশ সমাজে নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে, হেনরি নোভাক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাউদাম্পটনে উত্তেজনার পর কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভের জন্য বিভাজনের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। তবে ডাউনিং স্ট্রিট তার মন্তব্যেরও বিরোধিতা করে জানায়, যুক্তরাজ্য এখনও একটি সহনশীল, গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল সমাজ এবং বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এমন পূর্বাভাসের সঙ্গে সরকার একমত নয়।

অভিবাসন, সামাজিক সংহতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এলন মাস্কের সর্বশেষ মন্তব্য নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যকে কেউ ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার সমালোচকদের মতে, এমন মন্তব্য সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীবিরোধী সহিংসতায় আতঙ্কঃ বর্ণবাদী হামলা ও ভয়ভীতির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অভিবাসীরা

অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য অ্যাসাইলাম আবেদন নিষিদ্ধ করবে হোম অফিস

যুক্তরাজ্যে সাইবার হামলায় অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ তালহা জুবায়ের