আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে এক নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। উচ্চশিক্ষা নীতি ইনস্টিটিউট (HEPI) ও ক্যাপলান ইন্টারন্যাশনাল পাথওয়েজের প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২২/২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীসংখ্যা ২০২৪/২৫ সালেও বজায় থাকলে দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত প্রায় ২.৯ বিলিয়ন পাউন্ড যুক্ত হতো, যা প্রায় ২৩ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের সমতুল্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪/২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা শুরু করা ৪০৪,৫০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী তাদের অধ্যয়নকালজুড়ে প্রায় ৪৫.১ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থনৈতিক সুবিধা সৃষ্টি করবেন। সরকারি ব্যয় বাদ দিলে এর নিট অবদান দাঁড়ায় প্রায় ৪০.৪ বিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ প্রতি ১০ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গড়ে ১০ লাখ পাউন্ড নিট অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দেন।
গবেষণায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের আনার ওপর বিধিনিষেধ, স্নাতকোত্তর ভিসার মেয়াদ কমানোর পরিকল্পনা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি আয়ের ওপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মতো নীতিগত পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে এবং যুক্তরাজ্যকে তার ঐতিহ্যগত সুনামের পাশাপাশি শিক্ষার্থী-বান্ধব ও স্থিতিশীল নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে এবং সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সুস্পষ্ট ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন।
সূত্রঃ নিউজ ইউকে
এম.কে

