মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, আবার বোমা হামলা চালানো হলে যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
ইরানের এই হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
সাবেক মার্কিন মেরিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জনাথন হ্যাকেট এক আলোচনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং তাদের “মোজাইক নীতি” নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এমন কৌশল তৈরি করেছে যাতে সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল ও গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।
আলোচনায় আরও অংশ নেন সাংবাদিক ভেনেটিয়া র্যাইনি, সোফিয়া ইয়ান এবং রোল্যান্ড অলিপ্যান্থ। তারা চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইরানের সামরিক প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে মতামত দেন।
এ সময় এমন কিছু প্রতিবেদনের বিষয়েও আলোচনা হয় যেখানে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির বিকল্প হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে সামনে আনার চিন্তা করেছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ নিশ্চিত করেনি।
এছাড়া ইরাকের মরুভূমিতে গোপন ইসরাইলি ঘাঁটির খবর এবং লন্ডনে ইহুদিদের ওপর কয়েকটি হামলার পেছনে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফর এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোও চাপে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে রুশ তেল সম্পর্কিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হয়েছে বলেও আলোচনা উঠেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাডি ভ্যান্স সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়েও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

