20.8 C
London
August 6, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ রণক্ষেত্রে পরিণতঃ হামলায় গুরুতর আহত নারী পুলিশ

ইংল্যান্ডের নরফোক কাউন্টির থেটফোর্ড শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তেজিত জনতা কয়েকটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালায়, বাসিন্দাদের জোর করে ঘর থেকে বের করে আনে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হন। তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং আরেক পুলিশ কর্মকর্তার দিকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে থেটফোর্ডের একটি আবাসিক এলাকায় কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী একটি বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। স্থানীয়ভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ওই বাড়িগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, উত্তেজিত জনতা জানালা, বেড়া ও ডাকবাক্স ভাঙচুর করেছে এবং জোর করে বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জনের একটি দল বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। তারা চিৎকার-চেঁচামেচি করে এবং এক কর্মীকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেয়। অন্য একটি ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি একটি বাড়িতে ঢুকে বাসিন্দাকে জোরপূর্বক বের করে দেয় এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, হয়রানি এবং নিষিদ্ধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ষাটোর্ধ্ব আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আগের রাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে শর্তসাপেক্ষ সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নরফোক পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল জুলি ডিন বলেন, পুলিশ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারকে সম্মান করে, তবে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, জনসাধারণ, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য—কাউকেই লক্ষ্য করে সহিংসতা মেনে নেওয়া হবে না এবং এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম নরফোকের সংসদ সদস্য টেরি জার্মি ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, মানুষের নিজের বাড়ি সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় বাসিন্দাদের ঘর থেকে টেনে বের করা হয়েছে, বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাড়িগুলোতে থাকা ব্যক্তিদের অভিবাসন বা আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন, তারা সবাই মানুষ এবং তাদেরও আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অভিবাসন নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি নির্বাচিত নরফোকের পুলিশ ও অপরাধ কমিশনার কলিন সাটনও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, থেটফোর্ডে সহিংসতা ও ভাঙচুরের কোনো স্থান নেই।

এর আগে মঙ্গলবার রাতেও একই এলাকায় কয়েকটি বাড়ির জানালা ভাঙা, বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং একটি বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছিল। টানা দুই রাতের এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

এপস্টিন নথি ঘিরে রাজনৈতিক ঝড়, স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

“খুব শিগগিরই ৪ ইঞ্চি বরফে ঢেকে যাবে লন্ডন”

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটেনে দুই তৃতীয়াংশ তরুণী কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার