23.8 C
London
June 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় ঋণে নতুন শর্তঃ ইংরেজিতে পাস না করলে বন্ধ হতে পারে সরকারি সহায়তা

ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। নতুন একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সরকারি শিক্ষাঋণ (Student Loan) পেতে হলে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে GCSE ইংরেজিতে অন্তত পাস করতে হতে পারে।

নীতিটি বাস্তবায়িত হলে এটি একটি জাতীয় ন্যূনতম মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে, যা কার্যত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যারা GCSE বা সমমানের আনুষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি বর্তমানে মন্ত্রীপর্যায়ে আলোচনার মধ্যে রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার খরচের ঋণ পেতে ইংরেজি ভাষায় ন্যূনতম দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে প্রতি বছর ৩০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রভাবিত হতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি নিম্নআয়ের পরিবার, অপ্রচলিত শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী, এবং পরিণত বয়সে (mature students) আবার পড়াশোনায় ফেরত আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠন MillionPlus-এর প্রধান নির্বাহী র‍্যাচেল হিউইট বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যেই নিজেদের ভর্তি শর্ত এবং ইংরেজি দক্ষতার মানদণ্ড অনুসরণ করে। তার মতে, অতিরিক্ত সরকারি বাধা আরোপ শিক্ষার্থীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন Russell Group নীতিগতভাবে ন্যূনতম ভর্তি মানদণ্ডের ধারণাকে সমর্থন করলেও তারা সতর্ক করে বলেছে, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নমনীয়তা থাকা জরুরি। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী বিকল্প পথে বা দীর্ঘ বিরতির পর উচ্চশিক্ষায় ফিরছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছে।

শিক্ষা বিভাগ (Department for Education) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে “মূল্যমান ও দক্ষতার কেন্দ্র” হিসেবে গড়ে তুলতে চায় এবং নিম্নমানের কোর্সগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা চলছে।

সরকারি পরিকল্পনায় আরও বলা হচ্ছে, এই শর্তটি মূলত ইংরেজি ভাষা দক্ষতার মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মের মতোই একটি কাঠামো তৈরি করবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি পরোক্ষভাবে একটি ভর্তি বাধা হিসেবে কাজ করবে, কারণ শিক্ষাঋণ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সম্ভব হবে না।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাজ্যে প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া প্রায় ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীর GCSE, A-Level বা সমমানের কোনো আনুষ্ঠানিক যোগ্যতা ছিল না। অর্থাৎ প্রতি ১৫ জন নতুন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় একজন এই শ্রেণিতে পড়েন।

এছাড়া Bath Spa University এবং Leeds Trinity University-এর মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের বড় অংশই আনুষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই ভর্তি হন, যা ফ্র্যাঞ্চাইজি কোর্স ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারি অনুদান আরও ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড কমানোর পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে, যা ইতিমধ্যে শিক্ষা খাতে আর্থিক চাপ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও উচ্চ ব্যয়যুক্ত কোর্সগুলো এই কাটছাঁটের ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, নতুন নীতি বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সমালোচকদের দাবি, এটি সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে এবং নিম্নআয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা সংকুচিত করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ কারাগারে বোমা তৈরির পাঠঃ উগ্রপন্থী-অপরাধীদের জোটে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে

ইংল্যান্ডে গৃহহীন পরিবারদের বড় শহর থেকে সরিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার

সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসন আইন ঝুলে থাকায় ইংল্যান্ডে বাড়ছে মৃত্যু ও শোষণের অভিযোগ