থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ায় বিশ্রামের জন্য আসছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। জাহাজটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পর শহরটিতে নামবেন। তাদের আগমনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেমন অর্থনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জাহাজটি গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করে। এরই মধ্যে টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে কাটিয়েছে মার্কিন নৌসদস্যরা। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের সময় জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলেও অবস্থান করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নৌসদস্যদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
মার্কিন সেনাদের আগমনকে ঘিরে পাতায়ার হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসাগুলোও আশাবাদী। সাম্প্রতিক মন্দার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা কমে যাওয়ায় কয়েক হাজার মার্কিন নৌসদস্যের উপস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতিতে সাময়িক গতি আনতে পারে। পাতায়ার মেয়রের হিসাব অনুযায়ী, একজন মার্কিন সেনা দিনে প্রায় ৩০ থেকে ৯১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন।
তবে বিপুলসংখ্যক বিদেশি সেনার একসঙ্গে আগমনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে পাতায়ার নাইটলাইফ এলাকা ও সৈকতে যৌন হয়রানি, সহিংসতা এবং যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হলেও পাতায়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে আসছে। মার্কিন সেনাদের আগমনের আগে তাই পুলিশ নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে নজরদারি ও টহল বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে পরিচালিত কয়েকটি অভিযানে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যৌনকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়েছে। সেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের হয়রানি, সংঘাত, অবৈধ কর্মকাণ্ড কিংবা জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে দায়িত্ব পালনের পর পাতায়ায় কয়েকদিনের অবস্থান মার্কিন নৌসদস্যদের জন্য বিশ্রাম ও স্বাভাবিক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের উপস্থিতি পর্যটননির্ভর পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসায়ও স্বল্পমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ এপি \ রয়টার্স
এম.কে

