যুক্তরাজ্যে স্পনসরশিপের আওতায় কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কোনো কর্মীর চাকরি চলে গেলে বা স্পনসর প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান বন্ধ করে দিলে নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু উচ্চদক্ষ কর্মীকে বর্তমান ৬০ দিনের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ছয় মাস বা ১৮০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২৮ অক্টোবর ২০২৬ ঘোষিত যুক্তরাজ্যের বাজেটের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে নতুন ব্যবস্থাটি কার্যকর করা হবে। এর ফলে যোগ্য কর্মীরা স্পনসরশিপ শেষ হওয়ার পরপরই নতুন চাকরি খুঁজে পাওয়ার চাপে না পড়ে তুলনামূলক বেশি সময় পাবেন।
বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মীর চাকরির সম্পর্ক শেষ হলে হোম অফিস সাধারণত তার ভিসা বাতিল বা মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ার (Curtailment) প্রক্রিয়া শুরু করে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ৬০ দিন অথবা বিদ্যমান ভিসার অবশিষ্ট মেয়াদ—যেটি কম, সেই সময় পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়।
নতুন পরিকল্পনায় এই সময়সীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ছয় মাস করার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি সব স্কিলড ওয়ার্কার ভিসাধারীর জন্য প্রযোজ্য হবে না।
সরকারের বাজেট ঘোষণায় বলা হয়েছে, মূলত সর্বোচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন (Highest Skilled) স্পনসরড কর্মীদের এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে নতুন সময়সীমা কতদিন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্মী আগের উচ্চ বেতনের চাকরিতে কতদিন কাজ করেছেন তার ওপর। অর্থাৎ সবাই সমানভাবে ছয় মাস সময় পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কারা এই সুবিধা পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়ঃ
নতুন ঘোষণায় কোন কোন পেশা, বেতনসীমা কিংবা দক্ষতার স্তরের কর্মীরা ছয় মাস পর্যন্ত সময় পাওয়ার যোগ্য হবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত মানদণ্ড প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শুধু স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা থাকা বা নির্দিষ্ট কোনো পেশায় কাজ করার ভিত্তিতে কেউ এই সুবিধা পাবেন বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ ছাড়া আগের চাকরিতে কর্মীর বেতন এবং চাকরির মেয়াদের বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় বিবেচনায় আসবে বলে জানিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে বিস্তারিত নিয়ম পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
নতুন সময়ের মধ্যে কী করতে পারবেন কর্মীরা?
বর্ধিত সময়সীমার আওতায় আসা কর্মীরা নতুন কোনো লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্পনসরশিপ নিয়ে নতুন চাকরির জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি যোগ্যতা থাকলে গ্লোবাল ট্যালেন্টসহ অন্য কোনো উপযুক্ত অভিবাসন রুটে পরিবর্তনের আবেদন করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারবেন।
তবে ছয় মাসের সময় পাওয়া মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ভিসা পাওয়া বা অনির্দিষ্টকাল যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নিশ্চিত হওয়া নয়। নতুন ভিসার জন্য সংশ্লিষ্ট রুটের যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
যুক্তরাজ্য সরকারের বাজেট ঘোষণায় বলা হয়েছে, উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় ও কর্মীবান্ধব করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।
সূত্রঃ ইইএন
এমকে

