ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর ফলে দীর্ঘ সারি ও ভ্রমণ বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ব্রিটিশ যাত্রীদের দেশে ফেরার ফ্লাইটের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা উইজ এয়ার (Wizz Air)।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইজ এয়ার ইউকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইভোন ময়নিহান বলেন, ইউরোপের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ পার হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এর ফলে কিছু যাত্রী ফেরার ফ্লাইট কিংবা সংযোগকারী ফ্লাইট মিস করছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এন্ট্রি এক্সিট সিস্টেম (EES) চালুর পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ থেকে আগত যাত্রীদের আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন করতে হয়, যা প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় যাচাই করা হয়।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ কোটি প্রবেশ ও প্রস্থানের তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে এবং ৩৫ হাজার ব্যক্তিকে সীমান্তে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে শেনজেন অঞ্চলের সীমান্ত ও বিমানবন্দরগুলোতে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার কথা।
তবে ভ্রমণ বিশৃঙ্খলা এড়াতে গ্রীস ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে কার্যত বায়োমেট্রিক পরীক্ষা স্থগিত রেখেছে। অন্যদিকে স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মতো জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলোতে দীর্ঘ সারির অভিযোগ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
ময়নিহান বলেন, যাত্রীরা গন্তব্য বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হতে পারেন। এজন্য তাদের সঙ্গে পানি ও পাওয়ার ব্যাংক রাখার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময়ও অতিরিক্ত পাসপোর্ট যাচাইয়ের কারণে দীর্ঘ অপেক্ষার সম্মুখীন হতে হতে পারে বলে সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, “সাধারণ পরিস্থিতিতে আমরা যাত্রীদের ফ্লাইটের দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দিচ্ছি।”
বিমানবন্দরগুলোর ইউরোপীয় বাণিজ্য সংগঠন এসিআই ইউরোপ জানিয়েছে, ২০টি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের ৪৫টি বিমানবন্দরে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইইএস-এর কারণে অপেক্ষার সময় কোথাও কোথাও সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
সংগঠনটির মতে, আংশিকভাবে ইইএস স্থগিত রাখার সুযোগ ব্যবহার করা হলেও দীর্ঘ সারির ঘটনা বাড়ছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে যাত্রী সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
এসিআই ইউরোপ প্রযুক্তিগত ত্রুটি, কেন্দ্রীয় আইটি সিস্টেমের অস্থিতিশীলতা এবং সীমান্তরক্ষী কর্মীর ঘাটতিকে পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছে। ইতোমধ্যে পর্তুগাল জুলাই মাস থেকে বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত ৩৬০ জন সীমান্ত কর্মকর্তা নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, ইইএস সামগ্রিকভাবে ভালোভাবেই কাজ করছে এবং তথ্য নিবন্ধনে সাধারণত এক মিনিটের মতো সময় লাগে। কমিশন বলেছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেই পর্যাপ্ত জনবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ঘিরে জেট জ্বালানির সরবরাহে বিঘ্ন ও ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চললেও উইজ এয়ার বলছে, বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা নেই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের ফ্লাইট সূচিতে কোনো কাটছাঁটের পরিকল্পনা নেই এবং যাত্রীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে টিকিট বুক করতে পারেন।
তবে তেলের উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিমান ভাড়া বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন উইজ এয়ার ইউকের প্রধান ইভোন ময়নিহান। যদিও স্বল্পমেয়াদে অন্যান্য খাতে ব্যয় কমিয়ে সেই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান সংস্থাগুলো।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

