14.5 C
London
September 8, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ইতালিতে আজমেরি হক বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে হেনস্তার অভিযোগঃ ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে চাপ

ইতালির ভেনিসে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইতালি শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। মেস্ত্রে শহরের একটি পার্কে রাতে হাঁটার সময় তাকে ঘিরে ধরে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে সম্বোধন, গায়ে হাত তোলা এবং জোর করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে বাঁধন অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিওবার্তায় বাঁধন বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ভেনিসে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে অবস্থান করছেন। রাতে মেস্ত্রের একটি এলাকায় হাঁটার সময় কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে ঘিরে ধরেন এবং একপর্যায়ে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

বাঁধনের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে চাপ দেওয়া হয়। তবে তিনি নিজেকে একজন গর্বিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঘটনার সময়কার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এসব ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে কয়েকজনকে ঘটনায় জড়িত বা অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করার দাবি উঠেছে। তাদের মধ্যে মাদারীপুর জেলার মনিরুল হাওলাদার, যাকে কোথাও কোথাও হাওলাদার মনিরুল নামেও উল্লেখ করা হয়েছে, তার নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে।

বাঁধন তার বক্তব্যে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা ও বিরোধিতা হয়েছে। তিনি নিজেকে গর্বিত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই ২০২৪-এর পরও তিনি পেশাগত ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ বাছাই করেননি।

বাঁধনের দাবি, আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীর ছেলের পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্রেও তিনি জুলাই ২০২৪-এর পর কাজ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও একজন শিল্পী হিসেবে পেশাগত কাজের ক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তিগত বিদ্বেষকে প্রাধান্য দেননি।

ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, এ ধরনের আচরণ প্রমাণ করে যে নারীরা ছাত্রলীগের হাতে নিরাপদ নয়। তার মতে, ইতালির মতো বিদেশের মাটিতে একজন নারী শিল্পীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হেনস্তার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

বাঁধন আরও বলেন, ঘটনার ভিডিও পুরো বিশ্ব দেখবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর আচরণ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহল ধারণা পাবে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছিল, তার পেছনে কী ধরনের পরিস্থিতি ও জনঅসন্তোষ কাজ করেছিল—এই ঘটনাও সেই প্রশ্নকে সামনে আনবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজমেরী হক বাঁধন বর্তমানে ইতালিতে চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ ঘটনায় ইতালির পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, কিংবা তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে কথিত শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার এই অভিযোগ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রবাসী সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন ও কালবেলার প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং আজমেরী হক বাঁধনের ভেরিফায়েড ফেসবুক ভিডিওবার্তা

এম.কে

আরো পড়ুন

এনায়েতপুরে ‘গণপিটুনিতে’ ১২ পুলিশ সদস্য, গুলিতে দুই শিক্ষার্থী নিহত

ঝুঁকি নিয়েই ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনাঃ শীর্ষ নেতাদের নিয়ে করবেন আত্মসমর্পণ

আয়নাঘরের হোতা ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি মামুন খালেদ গ্রেপ্তার