TV3 BANGLA
স্পোর্টস

ইনস্টাগ্রামের একটি বার্তা থেকে বাংলাদেশের জার্সিতেঃ সাফজয়ী সুলিভান যমজদের গল্প

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা যমজ দুই ভাই রোনান ও ডেক্লান সুলিভানের বাংলাদেশের ফুটবল দলে যোগ দেওয়ার গল্প যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই দুই তরুণের সঙ্গে দেশের ফুটবলের যোগাযোগ শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তার মাধ্যমে। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই যোগাযোগ তাদের নিয়ে যায় বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের ক্যাম্পে, আর শেষ পর্যন্ত তারা হয়ে ওঠেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের সদস্য।

২৫ আগস্ট প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে রোনান ও ডেক্লানের বাংলাদেশে যুক্ত হওয়ার পুরো যাত্রাটি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি ফুটবলকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করা সমর্থকগোষ্ঠীর উদ্যোগ থেকেই সুলিভান পরিবারের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই যোগাযোগ ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় গড়ায়।

রোনান ও ডেক্লানের বাংলাদেশের হয়ে খেলার যোগ্যতার ভিত্তি তাদের পারিবারিক শিকড়। তাদের মাতামহী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। ফলে মাতৃসূত্রে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা অর্জন করেন তারা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও তাদের পারিবারিক বংশপরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।

সুলিভান পরিবার অবশ্য ফুটবলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। রোনান ও ডেক্লানের বড় ভাই কুইন সুলিভান যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবল ব্যবস্থায় খেলছেন। তাদের ছোট ভাই ক্যাভান সুলিভানও যুক্তরাষ্ট্রের বয়সভিত্তিক ফুটবলে পরিচিত নাম। অর্থাৎ ফুটবল তাদের পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুধু আগ্রহ প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাদের বাংলাদেশি বংশপরিচয় ও জাতীয় দলের হয়ে খেলার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে তারা অনূর্ধ্ব-২০ দলের আবাসিক ক্যাম্পে যোগ দেন।

শুরুতে বিদেশভিত্তিক কয়েকজন ফুটবলারকে অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ২৩ সদস্যের দলে জায়গা পান শুধু রোনান ও ডেক্লান সুলিভান। এতে স্পষ্ট হয়, শুধু প্রবাসী পরিচয়ের কারণে নয়, মাঠের যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাদের দলে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের জার্সিতে রোনানের অভিষেক হয় পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২৪ মার্চ ২০২৬ মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেই তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। তার জোড়া গোলে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করে।

রোনানের প্রভাব সেখানেই থামেনি। পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও তিনি বাংলাদেশের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডেক্লান অবশ্য ভাইয়ের মতো গোলদাতা হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে না থাকলেও দলের রক্ষণ ও মাঠের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজের ভূমিকা পালন করেন।

সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে টুর্নামেন্টের ফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে রোনান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি নিয়ে গোল করেন এবং দলকে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ টাইব্রেকারে ভারতকে ৪–৩ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হয়।

রোনানের পাশাপাশি ডেক্লানের উপস্থিতিও এই সাফল্যের গল্পকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। দুই ভাই একই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা দুই তরুণ হিসেবে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে নিজেদের পারিবারিক সম্পর্ককে মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নতুন অর্থ দিয়েছেন।

দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে রোনান ও ডেক্লানের গল্পকে বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী ও প্রবাসী-বংশোদ্ভূত প্রতিভা কাজে লাগানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। নতুন কোচ থমাস ডুলিও বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলের শক্তি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।

রোনান ও ডেক্লানের গল্প তাই শুধু দুই মার্কিন ফুটবলারের বাংলাদেশে এসে খেলার ঘটনা নয়। এটি প্রবাসী পরিচয়, পারিবারিক শিকড়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তৈরি যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিভাকে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করার একটি নতুন সম্ভাবনার গল্প।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে দেখতে চান না লিপু

যেভাবে ক্রিকেট ধ্বংসের পায়তারা করছে আইপিএল

ঘরের মাঠে হামজার অভিষেক ম্যাচে ভুটানকে হারালো বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক