TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, তবুও রয়ে গেছে বড় ঝুঁকি

টানা পাঁচ সপ্তাহের ব্যাপক বিমান হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান পিট হেগসেথ এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
তারা আরও দাবি করেন, সর্বশেষ ধাপে রাতভর ৮০০টি বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের শিল্পভিত্তি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করা হয়েছে, ইরান এখনো এমন সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইন জানান, হামলায় ৪৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ কেন্দ্র, ৮০০টি ড্রোন গুদাম এবং দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ অস্ত্র কারখানা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে একমুখী আক্রমণকারী শাহেদ ড্রোন তৈরির সব স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই সাফল্যের দাবির মাঝেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বাস্তবতা সামনে এসেছে—ইরানের কাছে এখনো প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা ভূগর্ভে গভীরভাবে সংরক্ষিত। মার্কিন পক্ষ বলছে, প্রয়োজনে এটিকে ধ্বংস করা সম্ভব হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে, বিশেষ করে যদি চলমান শান্তি আলোচনা ভেঙে যায়।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে “মিশন সম্পন্ন” ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বক্তব্যে সেই ধরনের আত্মবিশ্বাসের সুর ছিল। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা না করে এই সামরিক অভিযান আরও কতদূর এগোনো সম্ভব ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এছাড়া, ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে হামলার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে আরও বলা হচ্ছে, দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানের জন্য একটি নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। এতে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো সুবিধা আদায় করতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর আগে জেনেভায় যে ধরনের সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হতে চলেছিল, সেই ধরনের চুক্তির সম্ভাবনাও আবার সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, সামরিকভাবে বড় সাফল্যের দাবি করা হলেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক ঝুঁকি এবং কূটনৈতিক সমাধান—এই তিনটি ক্ষেত্রেই এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

আরো পড়ুন

মানবপাচার ঠেকাতে তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়ার সাথে কাজ করবে ব্রিটেন

ইরান যুদ্ধে যেতে চান না অনেক মার্কিন সেনা

চীন-ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক