11.1 C
London
May 19, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্পঃ ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

ইরানকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত সামরিক হামলা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী তিন নেতার অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে গ্রহণযোগ্য কোনো সমঝোতা না হলে “পূর্ণমাত্রার বড় হামলা” চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট।

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় নেতাদের বিশ্বাস—বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তা থেকে এমন একটি সমঝোতা সম্ভব যা যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে। তবে যেকোনো চুক্তিতে “ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না” — এই শর্ত স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ওই নেতাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পরিকল্পিত হামলা থেকে সরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।

এদিকে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক মার্কিন অভিযানের বিষয়ও রয়েছে।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রশ্নের সমাধান ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান কার্যকর হবে না। কারণ তেহরান এখন পর্যন্ত সেই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তরে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিমান হামলা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আবারও আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা কয়েকদিনের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে।

এছাড়া আগের দুটি হামলার অভিজ্ঞতার পর ইরানও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ফলে আকস্মিক হামলার কৌশল আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে দক্ষিণ লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতিও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইসরায়েল। দেশটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে হিজবুল্লাহর হামলা বেড়ে যেতে পারে এবং তা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জনবসতিতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ অবস্থায় ইসরায়েলের নর্দার্ন কমান্ডকে সীমিত বিমান ও গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে কাজ করতে হতে পারে, যা সামরিক কৌশল বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সংকটের মধ্যেই আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তেহরানও। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, “সংলাপ আত্মসমর্পণ নয়।”

তিনি বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র মর্যাদা ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। দেশের স্বার্থ ও সম্মান রক্ষায় আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাত নাকি কূটনৈতিক সমাধান—কোন পথে সংকট এগোবে, এখন সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ ওয়াই নেট গ্লোবাল

এম.কে

আরো পড়ুন

২৬ বছর পর প্রকাশ্যে ডায়নার ৬ ঘন্টার টেপ

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতি, ভারতীয় প্রকৌশলী চীনের দিকে ঝুঁকছে

ইসরায়েলি বাহিনীর মিথ্যাচার প্রকাশ্যে উন্মোচন করলো নিউ ইয়র্ক টাইমস!