11.4 C
London
September 9, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকাযুক্তরাজ্য (UK)

ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞা দিলে পালটা নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের

ইসরায়েলের পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনকে বয়কটের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‍্যান্ডি ফাইন। এক মন্তব্যের জবাবে তিনি যুক্তরাজ্যকে ‘ইউনাইটেড ইসলামিক কিংডম’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের বিষয়টি যুক্তরাজ্য মেনে নেবে না।

পশ্চিম তীরের E1 এলাকায় ১ হাজার ২০০টি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নেয়।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি এটিকে ‘কমপ্রিহেনসিভ রিসেট’ বা ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান র‍্যান্ডি ফাইন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের কারণে ফ্লোরিডা ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তার দাবি, ফ্লোরিডার একটি অঙ্গরাজ্য আইন অনুযায়ী ইসরায়েলকে বয়কট করা কোনো ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করতে বাধার মুখে পড়তে পারে।

ফাইন বলেন, কোনো ব্রিটিশ কোম্পানি ইসরায়েল বয়কটে অংশ নিলে এবং ফ্লোরিডায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সরকারি অনুমোদন, কর সংগ্রহ বা অন্য কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রয়োজন হলে সেই কোম্পানিও বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ফ্লোরিডা ব্রিটেনের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তার ভাষায়, লেবার সরকারের এই নীতি “মুসলিম সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন” এবং এর কারণে ব্রিটেনের কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে।

ফাইন আরও বলেন, ২০১৯ সালে ইসরায়েলের কিছু অংশ বয়কটের Airbnb-এর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও একই আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তাঁর দাবি, তখন আইনটির প্রভাবের কারণে Airbnb তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাইন বলেন, “যে কোনো কোম্পানি—অথবা যে কোনো দেশ—ইসরায়েলকে বয়কট করলে ফ্লোরিডাও তাকে বয়কট করবে।”

অন্য একটি মন্তব্যের জবাবে তিনি যুক্তরাজ্যকে “United Islamic Kingdom” নামে উল্লেখ করেন।

ফ্লোরিডা যুক্তরাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ফ্লোরিডায় প্রায় ৮৮ হাজার কর্মসংস্থানকে সমর্থন করে। যুক্তরাজ্যও ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে।

ফ্লোরিডার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাবেক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ল্যান্স ফোরম্যান বলেন, তার স্মোকড স্যামন ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরিডায় পণ্য বিক্রি করে আসছে। অ্যান্টি-বিডিএস আইন প্রয়োগ করা হলে তার ব্যবসা ফ্লোরিডায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ফোরম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন করেন, “আমি কি মিলিব্যান্ডকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির জন্য দায়ী করে মামলা করতে পারি?”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার একই লক্ষ্য ভাগ করে নেয়। তবে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের পথ অনুসরণ করবে না।

মিয়ামিতে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, “অবশ্যই আমরা যুক্তরাজ্য যা করেছে, তা করব না।” ব্রিটেনের পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘোষণাটি দেখেছে, তবে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করার মতো কিছু নেই।

ব্রিটেনের পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি রুবিও।

এদিকে ইসরায়েলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানান, জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি জেরেমি করবিন ও জারা সুলতানাসহ ১২ জন ব্রিটিশ এমপির ইসরায়েলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে সা’আর বলেন, “২ হাজার বছর পর আমরা আমাদের ভূমিতে ফিরে এসেছি—ইসলামপন্থী, ইহুদিবিদ্বেষী, জিহাদি, ওয়োক ও চরম বামপন্থীদের চাপের কাছে তা হারানোর জন্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা শুধু আমাদের ক্ষতি করতে পারবেন না, বরং নিজেদেরও ক্ষতি করবেন।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য থেকে প্রতি বছর প্রায় ১১ লাখ মানুষ ফ্লোরিডা ভ্রমণ করেন। ফলে ফ্লোরিডা ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধ তৈরি হলে ব্যবসা ও পর্যটন সম্পর্কও এর আওতায় আসতে পারে।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বসতি সম্প্রসারণ ঠেকানো এবং দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষা করা।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

বিবি স্টকহোম থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্য

ইরানে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হচ্ছে প্রতিবাদী ছাত্রীদের

যুক্তরাজ্যে ৮০ শতাংশ বাড়ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম