TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

কানাডায় আশ্রয় আবেদন নাটকীয়ভাবে কমেছেঃ স্টুডেন্ট-ভিজিট ভিসায় স্থায়ী হওয়ার পথ কঠিন

কানাডার অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি ও নতুন আইন কার্যকরের ফলে স্টুডেন্ট, ভিজিটর এবং অন্যান্য সাময়িক ভিসাধারীদের করা আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। দেশটির সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই বছরে অস্থায়ী ভিসাধারীদের অ্যাসাইলাম আবেদনের হার ৮৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা কানাডার অভিবাসন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একসময় স্টুডেন্ট বা ভিজিট ভিসায় কানাডায় প্রবেশের পর অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে থাকার চেষ্টা করতেন। তবে বর্তমানে সেই সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বেশি সীমিত হয়ে গেছে। কানাডা সরকার এখন সাময়িক ভিসাধারীদের আবেদনগুলো কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করছে এবং ভিসা আবেদনের সময় প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী অ্যাসাইলাম দাবির সামঞ্জস্য গভীরভাবে পরীক্ষা করছে।

ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে যেখানে ১০ হাজার ৯৫ জন অস্থায়ী ভিসাধারী অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেছিলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১ হাজার ৫৮০ জনে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এই বিশাল পতন কানাডার কঠোর অভিবাসন নীতির সরাসরি প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কানাডা সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ কার্যকর হওয়া ‘স্ট্রেনদেনিং কানাডাস ইমিগ্রেশন সিস্টেম অ্যান্ড বর্ডারস অ্যাক্ট’ বা বিল সি-১২। নতুন এই আইনের আওতায় অ্যাসাইলাম পাওয়ার যোগ্যতার শর্তগুলো আরও কঠোর করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কানাডায় অবস্থানের পর আশ্রয়ের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া সাময়িক ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রেও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যেসব আবেদনকারীর উদ্দেশ্য অস্পষ্ট, পরস্পরবিরোধী বা সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়, তাঁদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কানাডা সরকার ডিজিটাল আবেদন পোর্টাল চালু করেছে এবং বিভিন্ন ধাপে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে অযোগ্য বা দুর্বল আবেদন দ্রুত শনাক্ত করে খারিজ অথবা পরিত্যক্ত ঘোষণা করার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে যারা অ্যাসাইলাম ব্যবস্থাকে কানাডায় স্থায়ী হওয়ার একটি সহজ বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচনা করতেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। সরকারের লক্ষ্য এখন এমন একটি আশ্রয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রকৃত নির্যাতন, নিপীড়ন বা জীবনঝুঁকির মুখে থাকা ব্যক্তিরাই দ্রুত ও কার্যকর সুরক্ষা পাবেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, ১৯ জুন ২০২৬-এ প্রস্তাবিত নতুন আইন ও নীতিমালাগুলো কার্যকর হলে ভবিষ্যতে কানাডার আশ্রয় ব্যবস্থা আরও নিয়ন্ত্রিত ও কঠোর হতে পারে। ফলে স্টুডেন্ট, ভিজিটর বা অন্যান্য সাময়িক ভিসাধারীদের জন্য শুধুমাত্র কানাডায় প্রবেশের পর অ্যাসাইলাম আবেদন করে স্থায়ী হওয়ার কৌশল আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কানাডা এখন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে দেশটির আশ্রয় ব্যবস্থা কেবল প্রকৃত শরণার্থী ও সুরক্ষাপ্রার্থী ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, আর অভিবাসনের বিকল্প পথ হিসেবে এর অপব্যবহার রোধে সরকার কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

সূত্রঃ কানাডা সিএ

এম.কে

আরো পড়ুন

মার্কিন ভিসা পেতে দিতে হবে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য

কুকুরের মাংস খাওয়া ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করল দক্ষিণ কোরিয়া

নিউজ ডেস্ক

নোবেল পুরস্কার জয়ের কল পেয়ে অধ্যাপক অ্যানি বললেন ‘আমি ব্যস্ত, ক্লাস নিচ্ছি’