বিশ্বকাপ ফুটবারে সৌদি আরব ও উরুগুয়ের মধ্যকার ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে। অন্যান্য দেশের জাতীয় পতাকার মতো মাটিতে না রেখে সৌদি আরবের পতাকাটি মাঠের ওপর বিশেষভাবে উঁচু করে ধরে রাখা হয়। আয়োজকদের এই ব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাটি বিশেষ মর্যাদা পেয়ে থাকে। এর প্রধান কারণ হলো পতাকাটিতে ইসলাম ধর্মের পবিত্র কালেমা বা শাহাদাহ লেখা রয়েছে। ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে সৌদি আরবের পতাকাকে কখনোই মাটিতে স্পর্শ করতে দেওয়া হয় না।
অনুষ্ঠানের সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে সৌদি আরবের পতাকার পাশাপাশি উরুগুয়ের পতাকাও একই উচ্চতায় ধরে রাখা হয়। এতে দুই দেশের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সৌদি আরবের জাতীয় পতাকার ধর্মীয় মর্যাদাও রক্ষা করা সম্ভব হয়।
সৌদি আরবের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না যাতে তা মাটি, পানি বা অন্য কোনো পৃষ্ঠ স্পর্শ করে। এমনকি পতাকার ওপর লেখা কালেমার কারণে এটি পোশাক, বিজ্ঞাপন কিংবা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে।
দেশটির পতাকা সংক্রান্ত নীতিমালায় আরও উল্লেখ রয়েছে যে, বিবর্ণ, ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত পতাকা প্রদর্শন করা যাবে না। কোনো পতাকা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে তা যথাযথ মর্যাদা বজায় রেখে ধ্বংস করতে হয়, যাতে জাতীয় ও ধর্মীয় সম্মান অক্ষুণ্ন থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রীয় প্রতীক, যেখানে জাতীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পতাকাটির ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
এদিকে মাঠের খেলায় গ্রুপ ‘এইচ’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সৌদি আরব ও উরুগুয়ে ১-১ গোলে ড্র করে। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে সৌদি আরবের পক্ষে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আব্দুল্লাহ আল-আমরি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষভাগে উরুগুয়ের হয়ে সমতাসূচক গোল করেন ম্যাক্সি আরাউজো।
ফলে জয় হাতছাড়া হলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করে সৌদি আরব। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি মাঠে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাকে ঘিরে নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

