22.2 C
London
August 14, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করায় মসজিদ বন্ধের আদেশঃ ফ্রান্সে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক

প্যারিসের উপকণ্ঠের ওনে-সু-বোয়া এলাকার শঁতলুপ মসজিদ ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ফ্রান্সের মন্ট্রিউইল প্রশাসনিক আদালত। গত জুলাইয়ে জারি হওয়া এই আদেশ স্থগিতের আবেদন খারিজ হওয়ায় আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত মসজিদটি বন্ধ থাকবে। এই রায়কে ঘিরে দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মসজিদটির খুতবায় এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে যা উগ্রবাদকে উৎসাহিত করতে পারে। মামলার নথিতে ইমামদের কুরআনের সাতটি আয়াত উদ্ধৃত করা এবং ইসলামি ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রিয়াদুস সালিহীন ও চল্লিশ হাদিস থেকে রেফারেন্স দেওয়ার বিষয়টি অভিযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি খুতবায় ‘অবিশ্বাসীদের জাহান্নাম’ ও ‘কবরের শাস্তি’ প্রসঙ্গও কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের আইনজীবী রফিক শেক্কাত আদালতের সিদ্ধান্তে তীব্র হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—ফ্রান্সে একজন ইমাম কি এখনও মসজিদে কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করার স্বাধীনতা রাখেন? তার ভাষায়, “আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি রক্ষার জন্য কাউন্সিল অব স্টেটে আপিল করব।”
তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়ের কিছু অংশ সরাসরি ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির পরিপন্থী। তার মতে, প্রশাসনিক আদালত প্রিফেক্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে অনিচ্ছুক ছিল, তবে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালতে বিষয়টি আরও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আদালত অবশ্য রায়ে উল্লেখ করেছে, সেইন-সেন্ট-ডেনিস বিভাগের প্রিফেক্ট জুলিয়েন চার্লসের সিদ্ধান্তে ধর্মীয় স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার কোনো “গুরুতর ও স্পষ্ট বেআইনি লঙ্ঘন” ঘটেনি। বিচারকদের মতে, প্রশাসনের পদক্ষেপ আইনের সীমার মধ্যেই নেওয়া হয়েছে।
এই রায় ফ্রান্সে মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা সরকারি নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির সরকার ইতোমধ্যে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠন CCIF এবং দাতব্য সংস্থা BarakaCity-সহ একাধিক মুসলিম সংগঠন বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে জাতীয় নিরাপত্তা আইন মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সীমিত করার হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আগের ১৮ মাসে ফ্রান্সে ২২টি মসজিদ বন্ধ করা হয়েছিল। সমালোচকদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অনেক সময় গোপন গোয়েন্দা নথির ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যার পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ বা উৎস প্রকাশ করা হয়নি।
শঁতলুপ মসজিদ কর্তৃপক্ষ এখন কাউন্সিল অব স্টেটে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ফ্রান্সে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

আরো পড়ুন

হামাস যথারীতি ক্ষমতার আসনে, শক্তি হারাচ্ছে ইসরাইলঃ ইসরাইলি বিশ্লেষকের দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চীনের হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলি বসতির পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিল বেলজিয়াম;