29.1 C
London
August 9, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকামুক্তমত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানবিক সেবার সংকট: নিউইয়র্কের নার্স ছাঁটাই স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎকে কোথায় ঠেলে দিচ্ছে?

নাশিত রহমান || লন্ডন || ১৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের মন্টিফিওর মেডিকেল সেন্টারে ১২ জন অভিজ্ঞ নার্সকে চাকরিচ্যুত করে তাদের স্থলে এআই অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সফটওয়্যার বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়এটি স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রতীক। এই ঘটনা আমাদের সামনে এক মৌলিক প্রশ্ন উথ্থাপন করেছে—মানবিক বিচারবোধঅভিজ্ঞতা এবং ক্লিনিক্যাল দক্ষতা কি সত্যিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভবআর যদি এটা সম্ভব হয়তবে তার মূল্য কি রোগীদের নিরাপত্তাসেবার মান এবং মানবিকতার ক্ষয় দিয়ে পুনস্হাপন করা হচ্ছে? 

এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে যুক্তি মন্টিফিওর মেডিকেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তুলে ধরছে—“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানো”—তা যতই আকর্ষণীয় শোনাক না কেনবাস্তবতা হলো এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি মানবিক সেবার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করছে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়এটি মানুষের জীবনঅনুভূতিদুর্বলতা এবং জটিলতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সেই মানবিকতার জায়গায় যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদেরম মাধ্যমে হয়তবে সেবার মান কমে যাওয়া শুধু সম্ভাবনা নয়—এটি নিশ্চিত। সীমাহীন লোভ এবং কর্মীদের শোষণ পুঁজিবাদের মূল মন্ত্র নীতিহীন ট্রাম্পের শাষনাধীন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মাধ্যমে অনৈতিক ভাবে ট্রিলিয়নার হওয়া ইলন মাস্কের রাস্ট্র যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের পুঁজিবাদী অনৈতিক সদ্ধান্ত নেয়া স্বাভাবিক।  

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চিকিৎসা ব্যবস্থা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জার্মানির হামবুর্গমিউনিখ এবং বার্লিনের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে রোগী ভর্তিচিকিৎসা পরিকল্পনাডায়াগনস্টিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ এবং বীমা অনুমোদনের কাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চালিত সফটওয়্যার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ফ্রান্সের লিয়ঁ এবং মার্সেই শহরে রোবটিক নার্স ব্যবহার করা হচ্ছে যারা রোগীর ওষুধ বিতরণরুটিন চেকআপ এবং ডেটা সংগ্রহের কাজ করে। 

ইউরোপীয় হাসপাতালগুলো যুক্তি দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত কাজ করেভুল কমায় এবং খরচ কমায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই প্রযুক্তি মানবিক সেবার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করছে। রোগীর সঙ্গে নার্সের যে মানবিক সম্পর্কসহানুভূতি এবং ক্লিনিক্যাল বিচারবোধ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই দিতে পারে না। 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভুল নির্ণয়অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা বাতিল এবং রোগীর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীমানসিক রোগী এবং জটিল চিকিৎসার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। 

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চালিত হাসপাতাল: স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নাকি বিপদচীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্ভর স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান দেশ। বেইজিংসাংহাইশেনজেন এবং গুয়াংজুর বেশ কয়েকটি হাসপাতালে এখন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সেখানে— 

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডাক্তার রোগীর প্রাথমিক পরীক্ষা করে 
  • রোবটিক সার্জন অপারেশন পরিচালনা করে 
  • স্বয়ংক্রিয় মেশিন রোগীর ওষুধ বিতরণ করে 
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করে 

 

চীনের “Ping An Good Doctor” এবং “Tencent AI Medical Assistant” ইতোমধ্যে কোটি কোটি রোগীর চিকিৎসা তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছে। অনেক হাসপাতালে মানব ডাক্তার কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিদ্ধান্ত যাচাই করেন—অর্থাৎ চিকিৎসার মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে একটি অ্যালগরিদম। 

চীনের সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই পরিবর্তনকে “স্বাস্থ্যসেবার বিপ্লব” বলে প্রচার করছে। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চিকিৎসা রোগীর গোপনীয়তানৈতিকতা এবং মানবিকতার জন্য বড় হুমকি। রোগীর তথ্য রাষ্ট্রের নজরদারিতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছেএবং ভুল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দায়িত্ব নির্ধারণ করা কঠিন। 

উন্নত দেশগুলোতে একই প্রবণতা: মানবিকতা হারাচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা। দক্ষিণ কোরিয়াজাপানসিঙ্গাপুর এবং কানাডার হাসপাতালগুলোও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাপানে রোবটিক নার্স “Pepper” এবং “Robear” বয়স্ক রোগীদের সেবা দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ডায়াগনস্টিক সিস্টেম রোগীর এক্সরে এবং সিটি স্ক্যান বিশ্লেষণ করছে। সিঙ্গাপুরে হাসপাতালগুলো রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে। 

স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই পরিবর্তনগুলো দেখায়—স্বাস্থ্যসেবা খাত মানবিকতা থেকে যান্ত্রিকতার দিকে দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছেলোভ এবং লাভ প্রতিস্থাপন হচ্ছে। 

লাভই লক্ষ্যমানবিকতা নয়: স্বাস্থ্যসেবার কর্পোরেটিকরণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এটি মানবিকতার চেয়ে লাভকে বেশি গুরুত্ব দেয়। হাসপাতালগুলো মনে করছে— 

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সস্তা 
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত 
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভুল কমায় 
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মী ছাঁটাইয়ের সুযোগ দেয় 
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লাভ বেশী 

 

ফলে মানবিক সেবার বদলে কর্পোরেট লাভই হয়ে উঠছে প্রধান লক্ষ্য। নার্সডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিজ্ঞতামানবিকতা এবং নৈতিকতা—সবই এখন খরচের হিসাবের বাইরে চলে যাচ্ছে। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগী আর মানুষ নয়তিনি একটি ডেটাপয়েন্টএকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগরিদমের ইনপুট। চিকিৎসা আর মানবিক সম্পর্ক নয়এটি একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া।  

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের মন্টিফিওর মেডিকেল সেন্টারের ধমর্ঘটের মাধ্যমে অর্জিত অধিকার ভঙ্গ: নার্সদের ক্ষোভের যৌক্তিকতা। মন্টিফিওরের নার্সরা মাত্র কয়েক মাস আগেই ৪১ দিনের দীর্ঘ ধমর্ঘটের মাধ্যমে একটি নতুন শ্রমচুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কারণে কোনো পদ পরিবর্তন বা ছাঁটাই হলে ইউনিয়নের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ করতে হবে। কিন্তু ২৮ মে ২০২৬ তারিখে নার্সরা আকস্মিকভাবে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পানযেখানে বলা হয় তাদের পদ ১২ জুলাই ২০২৬ থেকে বিলুপ্ত হবে। 

এই নার্সদের মধ্যে কেউ কেউ ৩০ বা ৪০ বছর ধরে মন্টিফিও মেডিকেল সেন্টারে কাজ করেছেন। তারা রোগীর চিকিৎসা নথি পর্যালোচনাবীমা অনুমোদনচিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ এবং জটিল ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তাদের অভিজ্ঞতা ছিল হাসপাতালের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ। সেই অভিজ্ঞতাকে এখন প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফটওয়্যার দিয়ে—যা কেবল তথ্য বিশ্লেষণ করেকিন্তু রোগীর মানবিক বাস্তবতা বোঝে না। 

ইউনিয়নের অভিযোগ তাই শুধু শ্রমিক অধিকার নিয়ে নয়এটি রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে। তাদের বক্তব্য—“এটি প্রতিটি রোগীর জন্য উদ্বেগের বিষয়যারা মানসম্মত সেবা চান।” 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই ক্লিনিক্যাল বিচারবোধের বিকল্প? স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না। এটি দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারেভুল কমাতে পারে এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি অভিজ্ঞ নার্সের ক্লিনিক্যাল বিচারবোধের বিকল্প হতে পারে? 

একজন নার্স যখন রোগীর নথি পর্যালোচনা করেনতখন তিনি শুধু তথ্য দেখেন নাতিনি রোগীর বয়সলিঙ্গজাতিগত পরিচয়সামাজিক অবস্থাপূর্ববর্তী রোগের ইতিহাসমানসিক অবস্থা এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করেন। একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যালগরিদম এসব সূক্ষ্ম মানবিক উপাদান বুঝতে পারে না। ফলে ভুল সিদ্ধান্তচিকিৎসা বাতিলবীমা অনুমোদনে বিলম্ব বা রোগীর ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ে। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতা এখানে স্পষ্ট—এটি তথ্য দেখেমানুষকে নয়। ডেটাভ্যান্ট সফটওয়্যার: নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্ন। মন্টিফিওর যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করছে—ডেটাভ্যান্ট—তার বিরুদ্ধে অতীতে ডেটাব্রীচ সংক্রান্ত মামলা ছিল। কোম্পানিটির প্যালান্টিয়ারের সঙ্গে অংশীদারিত্বও রয়েছেযা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নজরদারিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি সরবরাহ করে। রোগীর সংবেদনশীল চিকিৎসা তথ্য এমন একটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা ইউনিয়নের। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে সফটওয়্যারটি কোনো ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত নেয় নাএটি কেবল কাগজপত্রের কাজ সহজ করে। কিন্তু নার্সদের মতেসফটওয়্যারটি কার্যত তাদের কাজই করছে—রোগীর নথি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বীমা কোম্পানির কাছে পাঠাচ্ছে। এটি শুধু প্রশাসনিক কাজ নয়এটি চিকিৎসার অনুমোদন নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলে। 

ডেটাভ্যান্ট সফটওয়্যার: স্বাস্থ্যসেবার ডেটা ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব নাকি বিপদস্বাস্থ্যসেবা খাতে এআইনির্ভর প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের মধ্যে ডেটাভ্যান্ট সফটওয়্যার এখন একটি আলোচিত নাম। হাসপাতালগুলো রোগীর নথি ব্যবস্থাপনাবীমা অনুমোদনচিকিৎসা পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। নিউইয়র্কের মন্টিফিওর হাসপাতাল সম্প্রতি ১২ জন অভিজ্ঞ নার্সকে ছাঁটাই করে তাদের কাজ ডেটাভ্যান্ট সফটওয়্যারের হাতে তুলে দেওয়ায় এই প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—ডেটাভ্যান্ট কি সত্যিই স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎনাকি এটি রোগীর নিরাপত্তা  গোপনীয়তার জন্য একটি বড় হুমকি? 

ডেটাভ্যান্ট সফটওয়্যার কী? ডেটাভ্যান্ট একটি স্বাস্থ্যডেটা ইন্টিগ্রেশন  অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্মযা হাসপাতালবীমা কোম্পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোগীর তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে। এর মূল কাজ— 

  • রোগীর নথি থেকে তথ্য সংগ্রহ 
  • বীমা অনুমোদনের জন্য ডেটা প্রস্তুত 
  • চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য অ্যালগরিদমিক বিশ্লেষণ 
  • প্রশাসনিক কাজ স্বয়ংক্রিয় করা 

 

এই সফটওয়্যারটি দাবি করে যে এটি মানবিক ভুল কমায়কাজের গতি বাড়ায় এবং খরচ কমায়। কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল।স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ কি কর্পোরেট খরচ কমানোর হাতেন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেড (NNU) বলছে—এআইচালিত ছাঁটাই স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। হাসপাতালগুলো খরচ কমানোর জন্য এআই ব্যবহার করবে এবং রোগীর সেবার মান কমে যাবে। 

স্বাস্থ্যসেবা খাত ইতোমধ্যে কর্পোরেটিকরণখরচ কমানো এবং লাভ বাড়ানোর চাপে রয়েছে। এআই সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি হাসপাতালগুলো মনে করে যে অভিজ্ঞ নার্সদের বদলে সফটওয়্যার ব্যবহার করা সস্তাতবে ভবিষ্যতে আরও নার্স ছাঁটাই হতে পারে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা মানবিকতা হারাবে এবং রোগী হবে একটি ডেটাপয়েন্ট—একটি অ্যালগরিদমের ইনপুট। 

মানবিকতা বনাম অ্যালগরিদম: কোন পথে যাবে স্বাস্থ্যসেবা? মন্টিফিওর হাসপাতালের এই সিদ্ধান্ত আমাদের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন তোলে—স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ কি মানবিকতার ওপর ভিত্তি করে থাকবেনাকি অ্যালগরিদমের ওপর? 

স্বাস্থ্যসেবা একটি মানবিক সম্পর্ক—রোগী ও সেবাদাতার মধ্যে বিশ্বাসসহানুভূতি এবং অভিজ্ঞতার বিনিময়। সেই সম্পর্ককে যদি সফটওয়্যার দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়তবে সেবার মান কমে যাওয়া শুধু সম্ভাবনা নয়—এটি নিশ্চিত। 

এআই অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহার করা যেতে পারেকিন্তু তা কখনোই লাইসেন্সধারী নার্সদের বিকল্প হতে পারে না। প্রযুক্তি মানবিকতার সহায়ক হতে পারেকিন্তু মানবিকতাকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। 

মন্টিফিওরের এই ঘটনা তাই শুধু একটি হাসপাতালের সিদ্ধান্ত নয়এটি স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সতর্কবার্তা—যা আমাদের এখনই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। 

 

পুনশ্চআমার লেখায় হাইপারলিঙ্কের ব্যবহার 

পাঠকদের জন্য এই  নিবন্ধে যুক্ত করা হাইপারলিঙ্কগুলো শুধু অতিরিক্ত তথ্যের উৎস নয়এগুলো পুরো বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য একটি সহজ পথ। আজকের ডিজিটাল যুগে পাঠকেরা শুধু মূল লেখা পড়ে সন্তুষ্ট থাকেন না—তারা জানতে চান তথ্যের উৎস কোথায়কোন গবেষণা বা প্রতিবেদন থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছেএবং বিষয়টির পেছনে আরও কী বাস্তবতা লুকিয়ে আছে। তাই হাইপারলিঙ্ক এখন আধুনিক লেখার একটি সাধারণ ও কার্যকর অংশ। 

এই হাইপারলিঙ্কগুলো পাঠককে নিজের মতো করে আরও অনুসন্ধান করতে সাহায্য করে। কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে সন্দিহান হনতিনি লিঙ্কে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়তে পারেন। কেউ যদি বিষয়টি আরও গভীরভাবে জানতে চানতিনি লিঙ্কের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রতিবেদনগবেষণা বা সরকারি নথি দেখতে পারেন। ফলে পাঠক শুধু লেখকের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেন না—তিনি নিজেই তথ্য যাচাই করতে পারেন এবং নিজের মতো করে মতামত গঠন করতে পারেন। 

এভাবে হাইপারলিঙ্ক ব্যবহার করে আমার লেখাটি আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে চেষ্ঠা করেছি। পাঠক বুঝতে পারেন যে লেখাটি শুধু মতামত নয়এটি তথ্যভিত্তিকযাচাইযোগ্য এবং বিভিন্ন উৎসে সমর্থিত। একই সঙ্গে এটি পাঠককে সক্রিয় করে তোলে—তিনি আর নিষ্ক্রিয়ভাবে পড়েন নাবরং বিষয়টি নিয়ে নিজেই অনুসন্ধান করেনতুলনা করেন এবং আরও জানার চেষ্টা করেন। 

আমার লেখায় হাইপারলিঙ্কের ব্যবহার করে পাঠকের জন্য  বিস্তৃত জ্ঞানভাণ্ডারের দরজা খুলে দেয়ার প্রয়াস। এভাবে হাইপারলিঙ্ক ব্যবহার লেখাকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং পাঠকের অভিজ্ঞতাকে আরও গভীর করে তোলে। সাধারণ পাঠকের জন্য এটি একটি সহজস্বাভাবিক এবং অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি—যা আধুনিক সম্পাদকীয় লেখার মানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

আরো পড়ুন

ল্যাবে উৎপাদিত মুরগি খাওয়ার জন্য নিরাপদ: মার্কিন নিয়ন্ত্রক

ডিপোজিট আনলক স্কিম

অনলাইন ডেস্ক

‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর শঙ্কায় ইলন মাস্ক!