12 C
London
October 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ক্লিন এয়ার জোনে ঢুকলেই জরিমানার ঝুঁকিঃ যুক্তরাজ্যে লাখো চালককে সতর্কবার্তা

যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন শহরের ক্লিন এয়ার জোনে (পরিচ্ছন্ন বায়ু অঞ্চল) গাড়ি চালাতে গিয়ে ৯৬ লাখের বেশি জরিমানার নোটিশ জারি করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে চালু হওয়া নিয়ম ও সড়কচিহ্ন নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে অনেক চালক জরিমানার মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্র্যাডফোর্ড, পোর্টসমাউথ ও লন্ডন—এই তিন এলাকায় ক্লিন এয়ার জোন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৯৬ লাখের বেশি পেনাল্টি চার্জ নোটিশ (পিসিএন) দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন লাখের বেশি জরিমানা করা হয়েছে একই অপরাধ বারবার করা চালকদের।

গাড়ির ধোঁয়া থেকে নির্গত ক্ষতিকর দূষণ কমাতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ক্লিন এয়ার জোন ও লো-এমিশন জোন চালু করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে গাড়ির নির্গমনমাত্রা নির্ধারিত মান পূরণ করতে হয়। কোনো গাড়ি নির্ধারিত মান পূরণ না করলে এবং প্রযোজ্য চার্জ পরিশোধ না করে চালক ওই অঞ্চলে প্রবেশ করলে জরিমানা হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরিং সংস্থা মোটরইজি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা আবেদনের মাধ্যমে জরিমানার এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ডানকান ম্যাকক্লুর ফিশার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ অঞ্চল বাড়তে থাকায় অপরিচিত শহরে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের সহজেই নিয়মের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন শহরের অবকাঠামো ও পরিবেশগত চাহিদা ভিন্ন হওয়ায় আঞ্চলিক পর্যায়ে এসব অঞ্চল পরিচালনা করার যুক্তি রয়েছে। তবে ক্লিন এয়ার জোনের নিয়মে পার্থক্য থাকায় চালকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। ফলে গাড়ি পার্ক করার আগেই অনেককে ১২০ পাউন্ড জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

ডানকান চালকদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে গন্তব্য শহরের ক্লিন এয়ার জোনের নিয়ম যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে নতুন গাড়ি কেনার পর সেটি সংশ্লিষ্ট শহরের নির্গমন মান পূরণ করে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। নতুন গাড়ি হলেও সেটি আগের গাড়ির মতো একই শ্রেণিতে পড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ক্লিন এয়ার জোনে প্রবেশের চার্জ পরিশোধ না করলে, ভুল পরিমাণ অর্থ দিলে কিংবা সড়কচিহ্নে উল্লেখ করা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে জরিমানার নোটিশ দেওয়া হতে পারে।

সাধারণত জরিমানার নোটিশ পাওয়ার পর প্রথম দুই সপ্তাহের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করলে কম হারে জরিমানা দেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে নির্ধারিত সময়ের পরে অর্থ পরিশোধ করলে পুরো জরিমানা দিতে হতে পারে। নোটিশ উপেক্ষা করলে আইনি ব্যবস্থার মুখেও পড়তে পারেন চালকরা।

এসব অঞ্চলের সড়কচিহ্ন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সাধারণত গাঢ় নীল পটভূমিতে সবুজ বৃত্তের মধ্যে মেঘের প্রতীক ব্যবহার করা হয়। দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক চালকের কাছে এসব চিহ্নের অর্থ স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে পরিচিত নির্গমন নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলগুলোর একটি হলো লন্ডনের আলট্রা লো এমিশন জোন (ইউলেজ)। পরিবেশদূষণ কমানোর লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিয়মের পার্থক্য ও সড়কচিহ্নের অস্পষ্টতা চালকদের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ওমিক্রন রোগীদের দুই তৃতীয়াংশের আগেও করোনা হয়েছিল

অনলাইন ডেস্ক

মহামারি উত্তরণে ট্যাক্স বৃদ্ধির উপর জোর দিলেন ঋষি সুনাক

নিউজ ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপে পড়েছে যুক্তরাজ্য