যুক্তরাজ্যে দোকানচুরি বা ‘শপলিফটিং’ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এখন সাধারণ পণ্যের মধ্যেও উচ্চ প্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু হয়েছে। এমনকি মাত্র ৪ পাউন্ডের কম দামের সসেজেও জিপিএস ট্র্যাকার বসিয়ে বিক্রি করছে একটি বড় সুপারমার্কেট চেইন।
ব্রিটিশ সুপারমার্কেট কো-অপ তাদের কিছু মাংসজাত পণ্য প্লাস্টিকের নিরাপত্তা বক্সে আটকে রাখছে, যেখানে সতর্কবার্তায় জানানো হচ্ছে—পণ্যের সঙ্গে জিপিএস ট্র্যাকার যুক্ত রয়েছে। এই ব্যবস্থা মূলত দোকানচুরি ঠেকানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাধারণত উচ্চমূল্যের পণ্য যেমন প্রিমিয়াম মাংস, মদ, মোবাইল ফোন বা দামি চকোলেট রক্ষায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও এবার তুলনামূলকভাবে সস্তা সসেজেও একই ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
কো-অপ জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে তারা গত বছরে খুচরা অপরাধ প্রায় ২১ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দোকান নিরাপত্তা জোরদারে কয়েক কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষিত নিরাপত্তারক্ষী, ইন্টারঅ্যাকটিভ সিসিটিভি, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, আন্ডারকভার গার্ড এবং শক্তিশালী সিকিউরিটি কিয়স্ক।
একজন মুখপাত্র বলেন, দোকানগুলো কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে বড় বিনিয়োগ করছে। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং দ্রুত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দোকানচুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও তারা দাবি করেছে।
তবে সরকারি ও শিল্প পর্যায়ের তথ্য বলছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। যুক্তরাজ্যে দোকানচুরি এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে পুলিশে রেকর্ড হওয়া দোকানচুরির ঘটনা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের মতে, প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে—প্রায় ৫৫ লাখ পর্যন্ত। বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব চিত্র সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বহুগুণ বড়।
দোকানগুলোর দাবি, ২০১৪ সালের আইন পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল, যখন ২০০ পাউন্ডের নিচে চুরি করলে শাস্তির কঠোরতা কমে যায়। যদিও বর্তমান সরকার এই সীমা বাতিল করে খুচরা অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে শুধু বড় নয়, ছোট ও দৈনন্দিন পণ্যেও নিরাপত্তা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে খুচরা বিক্রেতারা। মাংস, স্যামন, স্টেক এমনকি সাধারণ সসেজ পর্যন্ত এখন নিরাপত্তা বক্সে রাখা হচ্ছে।
দোকানচুরির ঢেউ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কিছু পর্যবেক্ষক বলছেন, এটি ব্রিটিশ সমাজে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত, আবার অনেকে এটিকে খুচরা অপরাধের বাস্তবতা মোকাবিলার বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান দোকানচুরির কারণে সুপারমার্কেটগুলো এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সাধারণ খাবারের প্যাকেটেও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে—যা দেশটির খুচরা খাতের নিরাপত্তা সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

