15.3 C
London
August 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ফেসবুকের স্পার্ম ডোনার গ্রুপে ভয়ংকর ফাঁদঃ প্রতারণার অভিযোগ

যুক্তরাজ্যে সন্তান নেওয়ার আশায় ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন স্পার্ম ডোনার গ্রুপে যোগ দেওয়া বহু নারী ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। যৌন হয়রানি, প্রতারণা, জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের চাপ, এমনকি দণ্ডিত ধর্ষক ও স্টকারদের উপস্থিতির অভিযোগে এসব অনিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হাজার হাজার সদস্যবিশিষ্ট এসব গ্রুপের কিছু পরিচালনা করছেন এমন পুরুষরা, যারা প্রকাশ্যে দাবি করেন যে তাদের শত শত সন্তান রয়েছে। অনেকেই “ন্যাচারাল ইনসেমিনেশন” বা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে গর্ভধারণে নারীদের চাপ দেন।

পূর্ব লন্ডনের ৩০ বছর বয়সী এক নারী, ছদ্মনাম “ক্রিস্টি”, জানান তিনি সন্তান নেওয়ার আশায় একটি ফেসবুক গ্রুপে ডোনার খুঁজতে গিয়ে আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। একজন ডোনার তার বাসায় এসে কৃত্রিম গর্ভধারণের জন্য নমুনা দেওয়ার কথা বললেও পরে আচরণ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি ওই ব্যক্তিকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

ক্রিস্টি বলেন, “আমি ভাবছিলাম তারা অলৌকিক সমাধান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।”

আরেক নারী “লুসি” জানান, ডোনার খুঁজতে পোস্ট দেওয়ার পর অসংখ্য অশ্লীল বার্তা পান। কেউ যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়, কেউ আবার তার ও তার বাগদত্তাকে নিয়ে থ্রিসামের কথা বলে।

তিনি বলেন, “অনেকেই এখানে শুধু যৌনতার জন্য আসে। তারা ভুল প্ল্যাটফর্মে আছে।”
যুক্তরাজ্যের মানব প্রজনন ও ভ্রূণবিদ্যা কর্তৃপক্ষ হিউম্যান ফার্টিলাইজেসন এন্ড এমব্রায়োলজি অথোরিটি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত ডোনার কার্যক্রম নারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কার্যত এমন কার্যক্রমকে “সহজতর” করছে।

এইচএফইএর কৌশল পরিচালক ক্লেয়ার এটিংহাউজেন সংসদীয় কমিটিতে বলেন, “কিছু পুরুষ নারীদের যৌন সম্পর্কে বাধ্য করছে। তারা আইন ভঙ্গ করেও প্রকাশ্যে কাজ করছে।”

আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে একজন ডোনার সর্বোচ্চ ১০টি পরিবারে শুক্রাণু দিতে পারেন। কিন্তু ফেসবুকের এসব গ্রুপে অনেকেই শত শত সন্তানের দাবি করছেন। কিছু ক্ষেত্রে ডোনারদের বিরুদ্ধে নারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং নমুনা ভেজাল করার অভিযোগও উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ চিকিৎসা পদ্ধতির উচ্চ ব্যয়ই অনেক নারীকে অনলাইন ডোনার গ্রুপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুক্তরাজ্যে একটি স্পার্ম ভায়ালের দাম ১,৫০০ পাউন্ডের বেশি হতে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয় আইভিএফ, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয়।

এনএইচএসের সীমিত সহায়তা এবং একক মা বা সমলিঙ্গের দম্পতিদের জন্য কঠিন শর্তের কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত এই ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে অপরিচিত ডোনারের মাধ্যমে গর্ভধারণ শুধু নারীদের নয়, ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্যও আইনি, স্বাস্থ্যগত ও মানসিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনকে ঋণমুক্ত করতে পেনশন কাটছাঁট অবশ্যম্ভাবী, কষ্ট স্বীকার করতে হবে সরকারকে

আগস্টে যুক্তরাজ্যের হাই স্ট্রিটে বন্ধ হচ্ছে সুপারড্রাগ, পাউন্ডল্যান্ডসহ একাধিক জনপ্রিয় স্টোর

ইংল্যান্ডে আসতে পারে নতুন কোভিড ওয়েভ!

অনলাইন ডেস্ক