TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ মন্তব্য ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে করা নিজের বিতর্কিত মন্তব্য থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তার সমালোচনামূলক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি আগের মতোই সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রিটিং বলেন, এর আগে তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন—ইসরায়েল “আমাদের চোখের সামনেই যুদ্ধাপরাধ করছে”—সেই বক্তব্য থেকে তিনি সরে আসবেন না। তিনি জানান, মন্তব্যগুলো ব্যক্তিগত আলোচনায় করা হলেও পরে তা প্রকাশ্যে এসেছে এবং তিনি সেগুলো অস্বীকার করছেন না।

স্ট্রিটিং বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে কঠিন করে তুলেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাজ্য এসব পদক্ষেপকে সমর্থন করে না এবং ইসরায়েলের কিছু কর্মকাণ্ড দেশটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার এবং আত্মরক্ষার অধিকারকে ব্রিটিশ সরকার সবসময় সমর্থন করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা করার কারণ দেশটির প্রতি বৈরিতা নয়; বরং একজন বন্ধুর দায়িত্ব থেকেই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, প্রকৃত বন্ধুত্বের অর্থ হলো প্রয়োজনে এমন কথাও বলা, যা বন্ধু শুনতে না-ও চাইতে পারে।

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক ক্যামিলা টোমিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় ছাড়া কীভাবে তিনি যুদ্ধাপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলছেন। জবাবে স্ট্রিটিং স্বীকার করেন, যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না—তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আদালতের বিষয়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা থেকে তিনি সরে আসছেন না।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে একটি নিরাপদ ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই টেকসই শান্তির একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে অতীতে করা নিজের মন্তব্য নিয়েও কথা বলেন স্ট্রিটিং। একসময় ট্রাম্পকে “দুঃখজনক ও ঘৃণ্য ছোট মানুষ” বলে অভিহিত করলেও এখন তিনি বলেন, আজ তিনি এমন মন্তব্য করতেন না। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এছাড়া স্ট্রিটিং জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ জাহাজ চলাচল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ না নিলেও নিজেদের স্বার্থ, নাগরিক, সম্পদ এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

স্ট্রিটিংয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজা যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও কূটনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালত ও অন্যান্য সংস্থায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

এশিয়ান ও কৃষাঙ্গ যুবাদের যুক্তরাজ্য ছাড়ার প্রবনতা বাড়ছেঃ গবেষণা

ইংলিশ চ্যানেলে যাত্রা ঠেকাতে ফরাসি উপকূলে সাইনবোর্ড ঝোলাচ্ছে যুক্তরাজ্য