14.7 C
London
October 29, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) আওতায় জাপানের বাজারে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের জন্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণেও এই চুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, চুক্তির আওতায় জাপানের ইস্পাত, মোটরযানের যন্ত্রাংশ এবং ইলেকট্রনিক উপাদানসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা পারস্পরিক বাণিজ্যে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে কোন পণ্যে কতটুকু শুল্কছাড় কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট পণ্যের তালিকা ও চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

তৈরি পোশাক খাতের জন্য চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা। এর ফলে পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে কাঁচামালের উৎস নিয়ে বিদ্যমান কিছু জটিলতা কমবে এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আরও সহজ হতে পারে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এই বিধান গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খাতগুলো হলো গাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, দ্রুতগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ। ২৮ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামের সংলাপে তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশটিতে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নিচে। গত অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি ডলার এবং জাপান থেকে আমদানি ছিল ২১৬ কোটি ডলার। নতুন চুক্তি ও বিনিয়োগ উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং এই ব্যবধান কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে শুল্কসুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা ও দক্ষ জনশক্তির চলাচলেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সূত্রঃ জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

এমকে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ হয়ে সেভেন সিস্টার্সে যাওয়ার রেল প্রকল্প স্থগিত ভারতের

যে কারণে বাংলাদেশে সেনা অভিযান হবে ভারতের জন্য দুঃস্বপ্ন

৫ দিনের রিমান্ডে হাজী সেলিম