TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

টেসকো স্টোরে আতঙ্ক: মুমূর্ষু সন্তানকে বাঁচাতে মায়ের লড়াই

ফ্লিন্টশায়ার, যুক্তরাজ্য: ব্যস্ত সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করার সময় হঠাৎ নিথর হয়ে পড়ে সাত মাসের শিশু রুপার্ট। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় তার শ্বাস-প্রশ্বাস। চারদিকে যখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক তখনই কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে এক লড়াকু মা শুরু করেন মরণপণ যুদ্ধ। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় এবং মায়ের দেওয়া সিপিআর (CPR)-এর মাধ্যমে অলৌকিকভাবে ফিরে আসে শিশুটির প্রাণ।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যের ফ্লিন্টশায়ারের ব্রোটন শপিং পার্কের টেসকো (Tesco) স্টোরে। শিশুটির নাম রুপার্ট স্মিথ।

যেভাবে শুরু হয় আতঙ্ক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার সকালে রুপার্টের বাবা ডেভ স্মিথ এবং মা সিওভান তাদের ছেলেকে নিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রিন্ট করতে টেসকো স্টোরে ঢোকেন। হঠাৎ তারা লক্ষ্য করেন রুপার্ট নড়াচড়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং তার শরীর নীল হয়ে আসছে। সে সময় তার শ্বাস-প্রশ্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

পেশায় ফার্মেসি টেকনিশিয়ান মা সিওভান কালক্ষেপণ না করে সেখানেই শিশুকে সিপিআর দিতে শুরু করেন এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে উত্তর ওয়েলস পুলিশ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। পুরো সুপারমার্কেটটি খালি করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ এলাকাটি কর্ডন করে ফেলে।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রুপার্ট

রুপার্টকে দ্রুত লিভারপুলের অল্ডার হে চিলড্রেন’স হাসপাতালে বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার বাবা ডেভ স্মিথ জানান, রুপার্ট এখনও পুরোপুরি বিপদমুক্ত নয়। হাসপাতালের বিছানায় সে এখনও ঘনঘন খিঁচুনির শিকার হচ্ছে।

বিরল রোগ ‘AHC’ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

রুপার্ট আসলে ‘অল্টারনেটিং হেমিপ্লেজিয়া অফ চাইল্ডহুড’ (AHC) নামক এক ভয়াবহ ও বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত। বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০ লক্ষ শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের এই রোগ দেখা দেয়। এই রোগের কারণে যে কোনো সময় শিশুর শরীর অবশ হয়ে যেতে পারে বা শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

রুপার্টের বাবা বলেন, “যুক্তরাজ্যে এই রোগের স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। আমাদের একমাত্র আশা এখন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে নতুন কিছু ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে যা রুপার্টের প্রাণ বাঁচাতে পারে।”

তহবিলের জন্য আবেদন

রুপার্টের চিকিৎসার বিশাল খরচ মেটাতে তার পরিবার ‘রুপার্টস রেইনবো’ (Rupert’s Rainbow) নামে একটি তহবিল গঠন করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫,০০০ পাউন্ড সংগ্রহ হলেও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য আরও প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।

মাতা সিওভান অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, “সে আমাদের জীবনের আলো। তার ওই বড় বড় নীল চোখের হাসির জন্য আমরা পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব।”

সূত্রঃ বিবিসি

আরো পড়ুন

মুদ্রাস্ফীতির সময়ে অর্থনৈতিক দৈন্যতায় ভোগা পরিবার পাচ্ছেন বিশেষ সাহায্য

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সক্রিয় টোরি এমপি

হামের প্রাদুর্ভাবের ভয়ে আছে যুক্তরাজ্য

নিউজ ডেস্ক