যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে গঠিত “বোর্ড অফ পিস” কমিটিতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অনুপস্থিতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। ম্যাক্রোঁ এই কমিটিতে যোগ দেবেন না জানালে ট্রাম্প বলেন, তাকে কেউ জোর করছে না। তবে সঙ্গে সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ফরাসি ওয়াইনের ওপর ২০০% শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে ম্যাক্রোঁকে যোগ দিতে বাধ্য হতে হবে।
ভিডিও ফুটেজে ট্রাম্পের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে স্পষ্ট যে, তিনি ইউরোপকে মিত্র হিসেবে অনুরোধ করছেন না; বরং রীতিমতো শাসনমূলক ভঙ্গিতে চাপ প্রয়োগ করছেন। এরই প্রমাণ হিসেবে সম্প্রতি ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফিনল্যান্ডসহ ন্যাটোর কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করেছিল। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হয়, এবং নীতির সাথে একমত না হলে আগামী জুন থেকে তা ২৫% করার হুমকি দেওয়া হয়।
ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যেই চাপে পড়ে। যেমন, জার্মানি গ্রিনল্যান্ড থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে। এটি প্রমাণ করে, ট্রাম্প জানেন—যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটো কার্যত অচল। একই সঙ্গে তার কৌশল প্রদর্শন করে যে, অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে বজায় রাখা সম্ভব।
বিশ্বের অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্র, যেমন চীন ও রাশিয়া যতই কৌশল প্রয়োগ করুক না কেন, পারমাণবিক অস্ত্র বাদ দিলে কনভেনশনাল যুদ্ধে বা জিওপলিটিক্যাল ক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও একমাত্র সুপার পাওয়ার। ট্রাম্পের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তার প্রভাবকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে।
সূত্রঃ এম টি এন
এম.কে

