8.8 C
London
March 7, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি প্রত্যাখ্যান ইরানের, ইসরায়েল-মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করলেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেহরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। একই সঙ্গে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে “অত্যন্ত কঠোর” হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে চায় না—শুধু সেসব স্থান থেকেই যদি হামলা পরিচালিত হয়, তখনই প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। ট্রাম্প এ বক্তব্যকে “আত্মসমর্পণ” হিসেবে দাবি করলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা তেল আবিবের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তেল হাশোমের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একটি বিশেষ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে লেবাননের সীমান্তসংলগ্ন হুনিন গেট এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যানবাহনের একটি বহরেও হামলা চালানোর দাবি করেছে সংগঠনটি।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে। তারা দাবি করছে, এসব হামলার লক্ষ্য হিজবুল্লাহর অবস্থান। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর—যেখানে কয়েক লাখ মানুষ বসবাস করে—সেগুলোতেও নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনে জানা গেছে, পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকার জেননাতা হাইটস এলাকায় এবং দক্ষিণ লেবাননের দুয়েইর, আনসার ও জেবশিত শহরে ইসরায়েলি বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডনক জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প রপ্তানি সক্ষমতা ব্যবহার করছে, যাতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংরক্ষণাগার ব্যবহার করে সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তার মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাকে ট্রাম্প ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ট্রাম্পের “এক সপ্তাহের সামরিক অভিযান” ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং বহু তরুণ সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছে।

আরাঘচি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে তার নিজস্ব যুদ্ধের মধ্যে টেনে এনেছেন। তিনি এ সংঘাতকে “ইসরায়েলিদের” পছন্দের যুদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত সপ্তাহে নিহত হওয়ার পর দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৈঠকে বসে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সদস্য হোসেইন মোজাফারি।

অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে (ওয়েস্ট ব্যাংক) নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হেবরন শহরের কাছে মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় এক ২৭ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবককে একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গুলি করে হত্যা করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

একই সময়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এই ঘাঁটিতে সৌদি ও মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “নৃশংস সামরিক আগ্রাসনের” জবাব দেওয়া তাদের বৈধ আত্মরক্ষার অধিকার। তেহরান জানিয়েছে, আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অথবা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রকৃত আগ্রাসীদের চিহ্নিত না করা পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে। তবে ইরান জোর দিয়ে বলেছে, এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে শত্রুতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

গাজায় ফের অভিযান চালাতে পারে ইসরায়েলঃ ট্রাম্প

মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম আর্থিক জালিয়াতিতে ১১৫ বছরের জেল

সৌদি আরবে দেখা গেছে রমজানের চাঁদ