যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন, এই ফলাফল ট্রাম্পের বিভাজনমূলক ও ক্ষতিকর রাজনীতির প্রতি মার্কিন জনগণের প্রত্যাখ্যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাটদের বড় বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান সাদিক খান। তিনি লেখেন, ‘গত রাতের বিশাল বিজয়ের জন্য ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন। আশা, ঐক্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে পরিবারগুলোকে সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচার চালানো হয়েছে। এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষতিকর ও বিভাজনমূলক রাজনীতির প্রতি জনগণের প্রকৃত প্রত্যাখ্যান।’
তিনি আরও বলেন, লন্ডন সবার জন্য এবং ভবিষ্যতেও সবার জন্য থাকবে। নারী অধিকার, বৈচিত্র্য, জলবায়ু ও মানবাধিকারের পক্ষে শহরটির অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
সাদিক খানের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ আবারও সামনে এসেছে। এর আগে ২০২৪ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনী বিজয়ের পর লন্ডনের মেয়র বলেছিলেন, অনেক লন্ডনবাসী ওই ফলাফলে উদ্বিগ্ন এবং গণতন্ত্র ও নারীর অধিকার নিয়ে শঙ্কিত হতে পারেন। এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর তার প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
দুই নেতার বিরোধ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় ট্রাম্প মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই সাদিক খান ও ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরের সমালোচনা করে আসছেন।
সাদিক খান অতীতে ট্রাম্পকে ‘বুলির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাশাপাশি তার রাজনৈতিক বক্তব্যকে বর্ণবাদী, যৌনবাদী, নারীবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এমনকি ট্রাম্পের বক্তব্যকে বিশ শতকের ফ্যাসিবাদীদের বক্তব্যের সঙ্গেও তুলনা করেন লন্ডনের মেয়র।
অন্যদিকে, গত গ্রীষ্মে ব্রিটিশ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প সাদিক খানকে ‘চরম অযোগ্য’, ‘খারাপ মানুষ’ এবং যুক্তরাজ্যের জন্য ‘ভয়াবহ প্রতিনিধি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। লন্ডনের অপরাধ পরিস্থিতি ও শহরের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের জন্যও তিনি মেয়রকে দায়ী করেছিলেন।
ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের জবাবে সাদিক খানের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, ট্রাম্পের চিন্তাজুড়ে সাদিক খান এমনভাবে রয়েছেন যে মনে হয় তিনি বিনা ভাড়ায় তার মনেই বসবাস করছেন। পরে খান নিজেও ট্রাম্পকে তার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগী বলে মন্তব্য করেন।
দুই নেতার বিরোধ গত বছর ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের সময়ও প্রকাশ্যে আসে। উইন্ডসর ক্যাসেলে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় সাদিক খানকে আমন্ত্রণ না জানানোর জন্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে তিনি বলেছিলেন, খানকে ওই অনুষ্ঠানে দেখতে চাননি।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সাদিক খানের মন্তব্য নতুন করে দুই নেতার দীর্ঘদিনের বিরোধকে আলোচনায় এনেছে। তবে তার সর্বশেষ বক্তব্যের বিষয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

