TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ট্রাম্প-ইরান উত্তেজনায় ব্রিটেনঃ আইআরজিসির হুমকি, বার্নহামের কঠিন পরীক্ষা

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিরোধ করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তবে একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়ায় দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিবিসির সানডে উইথ লরা কুয়েন্সবার্গ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, তিনি সবসময় ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন। প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের সঙ্গে ভিন্নমতও প্রকাশ করবেন। একই সঙ্গে তিনি আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম টেলিফোন আলাপ ছিল “অত্যন্ত আন্তরিক”। পরে ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্নহামের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই উষ্ণ সম্পর্কের মধ্যেও বার্নহামের সামনে বড় কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। কারণ তিনি তার পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের নীতি বহাল রেখে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। এর পরপরই আইআরজিসি ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে হুমকি দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোকে “বৈধ লক্ষ্যবস্তু” বলে উল্লেখ করে।

এদিকে দ্য টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, আইআরজিসি দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ, দাতব্য সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে যুক্তরাজ্যে একটি প্রভাববলয় গড়ে তুলেছে। সেখানে আরও দাবি করা হয়, ছোট নৌকায় অবৈধ অভিবাসনের রুট ব্যবহার করে আইআরজিসির এজেন্টদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের অবস্থান আরও স্পষ্ট হওয়ায় তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা—দুই দিকই এখন বার্নহাম সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে কিয়ার স্টারমারের ক্ষমতা ছাড়ার পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নীতির প্রভাব নিয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও জল্পনা ছড়ালেও, এসব দাবির পক্ষে কোনো সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বার্নহামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি ইরানসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক যতই ইতিবাচক থাকুক না কেন, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সংকটে ব্রিটেনকে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে তারা মনে করছেন।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

“দেশকে ছিঁড়ে ফেলবে রিফর্মের নীতি”—নাইজাল ফারাজকে নিয়ে স্টারমারের কড়া সমালোচনা

যুক্তরাজ্যে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সিরীয় আশ্রয়প্রার্থীর বিচার শুরু

যুক্তরাজ্যে আবাসনের জন্য যুদ্ধঃ ব্রিস্টলে গৃহহীনতার চাপে গড়ে উঠছে চলমান জনপদ