18.6 C
London
August 16, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

তাপদাহ-খরায় বিপর্যস্ত ইউরোপঃ পানির অভাবে বন্ধ রোমানিয়ার একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

তীব্র তাপদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরায় ভয়াবহ পানিসংকটে পড়েছে ইউরোপ। মহাদেশটির দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী ডানিয়ুবের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় রোমানিয়ার একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘চেরনাভোদা’ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম কেন্দ্রটির দুই রিয়্যাক্টরই একসঙ্গে বন্ধ হলো।

৭০৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার চেরনাভোদা কেন্দ্রটি স্বাভাবিক সময়ে রোমানিয়ার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। কিন্তু রিয়্যাক্টর ঠান্ডা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট দেখা দেওয়ায় প্রথম রিয়্যাক্টরটি গত জুলাইয়ে বন্ধ করা হয়। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরটিও জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

কেন্দ্রটির পরিচালক রোমেও উরজান জানিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডানিয়ুব নদীতে পাথরবোঝাই কয়েকটি বার্জ ডুবিয়ে পানির স্তর বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও তা কাজে আসেনি।

এই সংকটের প্রভাব শুধু রোমানিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। একই ডানিয়ুব নদীর ওপর কুলিং ব্যবস্থার জন্য নির্ভরশীল হাঙ্গেরির ‘পাক্স’ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। চার রিয়্যাক্টরবিশিষ্ট কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর পানি এতটাই কমে গেছে যে পানি সংগ্রহের ব্যবস্থাগুলো পর্যাপ্ত পানি পেতেও সমস্যায় পড়ছে। ফলে কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রোমানিয়াকে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দিনের বেলায় সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। তবে সন্ধ্যার দিকে চাহিদা বাড়লে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানিও বাড়াতে হচ্ছে।

পানির স্তর কমে যাওয়ায় দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ রাইন নদীতেও। পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় রাইন দিয়ে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা ইউরোপের সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানলও ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের পর্যটন এলাকাগুলোতে দাবানলের কারণে দুই শতাধিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের প্রায় ৮০টি প্রশাসনিক এলাকায় তাপদাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্পেনেও তীব্র গরম অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কেউ গার্ডেনসে বৃহস্পতিবার চলতি বছরের সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এলাকায় কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডে মানুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি চারটি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপ প্রায় দ্বিগুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। ফলে তাপদাহ, খরা, পানিসংকট ও দাবানল ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও অর্থনীতিতেও। ইতালিতে খরা, শিলাবৃষ্টি ও দাবানলের কারণে কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্রান্সেও সাম্প্রতিক তাপদাহের কারণে ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ডাচ ব্যাংক ট্রিওডোস সতর্ক করেছে, তীব্র তাপদাহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোজোনের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও ব্যাহত করতে পারে। কারণ পানিসংকট একসঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি, শিল্প ও নৌপরিবহনে চাপ তৈরি করছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী খরা ও পানির ঘাটতি দ্রুত কাটবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ইউরোপের সামনে এখন শুধু তাপদাহ মোকাবিলা নয়, পানির নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা

নিউজ ডেস্ক

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক স্যার ববি চার্লটন মারা গিয়েছেন

বিং চ্যাটবটের হুমকি: আমার ক্ষতি না করলে তোমারও ক্ষতি করব না