TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে নিতে রাজি মাত্র ৬% ব্রিটিশঃ জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সম্ভাব্য সামরিক হুমকি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ওপর বিদেশি আগ্রাসনের আশঙ্কা দেখা দিলে স্বেচ্ছায় অস্ত্র হাতে নিয়ে দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে প্রস্তুত মাত্র ৬ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক। একই সঙ্গে অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন, বর্তমান ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা নেই।

জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠান ইউগভ (YouGov) পরিচালিত এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে, মাত্র ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সম্ভাব্য আক্রমণের মুখে তারা স্বেচ্ছায় সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করবেন। আরও ১৪ শতাংশ জানিয়েছেন, সরকার বা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানালে তারা দেশ রক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত থাকবেন।

অন্যদিকে, ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের ওপর সরাসরি হামলার আশঙ্কা থাকলেও তারা অস্ত্র হাতে নেওয়ার নির্দেশ মানবেন না। আর ৫২ শতাংশের দাবি, বয়স বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে তাদের পক্ষে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়।

জরিপে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের ৫৩ শতাংশ মনে করেন, বর্তমান সামরিক শক্তি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বিপরীতে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।

এছাড়া প্রতি ১০ জনের প্রায় ৩ জন, অর্থাৎ ২৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ওপর পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার ঝুঁকি বাস্তব। যদিও ৫১ শতাংশের মতে, এমন হামলার সম্ভাবনা খুবই কম।

শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ইউগভের এই জরিপে পোল্যান্ড, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, পোল্যান্ডের মানুষ সামরিক হামলাকেই সবচেয়ে বড় জাতীয় হুমকি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্সে জলবায়ু পরিবর্তনকে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জার্মানিতে গণঅভিবাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উগ্রবাদকে প্রধান জাতীয় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ব্রিটিশ জলসীমার কাছাকাছি গোলাবর্ষণ মহড়া চালানোর ঘটনাকে “দেখনদারি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে মন্তব্য করেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের নিউস্ত্রাশিমি (Neustrashimy) ফ্রিগেট প্লাইমাউথের দক্ষিণে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চালায়। মহড়া শুরুর আগে তারা রয়্যাল নেভির টহলজাহাজ এইচএমএস টাইন (HMS Tyne)-কে বিষয়টি অবহিত করে।

ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের প্রতিনিয়ত যেসব নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি তারই অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার উচিত স্পষ্টভাবে বুঝে নেওয়া যে ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসন এবং মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সামরিক প্রস্তুতি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ জরিপের ফলাফলও দেখাচ্ছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে দেশটিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

‘সাংস্কৃতিক ঐক্য’র নামে বৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পরিকল্পনা ঘৃণ্যঃ লেবার পার্টি

বিলেতে বাড়ি বেচাকেনা: প্রোপার্টি সার্ভে

নিউজ ডেস্ক

ওমিক্রনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ১ বিলিয়ন পাউন্ড গ্রান্ট

অনলাইন ডেস্ক