নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত এক ব্রিটিশ নারী তার ৯১ বছর বয়সী মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যুক্তরাজ্যে যেতে পারছেন না। নতুন হোম অফিসের নিয়মগুলো তার ভ্রমণ সীমিত করেছে এবং এটি তাকে “স্ট্রেস অন স্ট্রেস” তৈরি করেছে।
অ্যানি, যিনি পূর্ণ নাম প্রকাশ করতে চাননি, জানান তার ব্রিটিশ পাসপোর্ট গত শুক্রবার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এবং নবায়নের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি ধারণা করেছিলেন, ডাচ পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি আগের মতোই মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।
কিন্তু বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ড ছাড়া অন্য যেকোনো দেশের দ্বৈত নাগরিককে ব্রিটিশ পাসপোর্ট দেখাতে হবে। অন্যথায় ৫৮৯ পাউন্ড ফি দিয়ে “সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট” নিতে হবে, যা পেতে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অ্যানি বলেন, “হোম অফিস বুঝতে পারছে না তারা কী করছে। আমার জীবনের শেষ সময়ে মায়ের পাশে থাকার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবার তাকে দেখতে গেলে মনে হয়—আবার দেখা হবে তো? এটা ভীষণ মানসিকভাবে কষ্টদায়ক।”
সাবেক কনজারভেটিভ ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও ব্রেক্সিট সেক্রেটারি ডেভিড ডেভিস বলেছেন, দ্বৈত নাগরিকদের জন্য একটি জরুরি গ্রেস পিরিয়ড চালু করা উচিত। এতে অ্যানির মতো ব্রিটিশ নাগরিকরা পাসপোর্ট প্রসেসিং চলাকালীন দ্বিতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করতে পারবেন।
ডেভিস বলেন, “দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের কোনোভাবেই বঞ্চিত করা উচিত নয়। নতুন নিয়মে তারা নিজেদের দেশেই বিদেশি দর্শনার্থীর মতো আচরণ করা হচ্ছে। এর ফলে অনেকেই ফ্লাইটে উঠতে পারছেন না এবং দেশে ফিরতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।”
লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের শ্যাডো হোম অ্যাফেয়ার্স মুখপাত্র উইল ফ্রস্টারও গ্রেস পিরিয়ড চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
অ্যানির মা একাধিক স্ট্রোকের পর ইয়র্কশায়ারের একটি কেয়ার হোমে রয়েছেন। অ্যানি বলেন, “শুধু শেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত থাকতে চাই না; জীবনের শেষ মুহূর্তের পুরো যাত্রা মায়ের সঙ্গে ভাগ করতে চাই।”
অ্যানি ১৯৯৯ সালে নেদারল্যান্ডসে পাড়ি জমান। তিনি কখনোই দ্বৈত নাগরিক হওয়ার ইচ্ছা করেননি, তবে ব্রেক্সিটের পর নিজ এবং পরিবারের অধিকার রক্ষা করতে ডাচ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
হোম অফিস জানিয়েছে, নতুন নিয়মগুলি ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ছিল, তবে বহু মানুষ কিছুই জানতেন না এবং বিমানবন্দর বা বিদেশে বসবাসরত ব্রিটিশদের কোনো সতর্কবার্তা দেয়া হয়নি।
হোম অফিসের মতে, ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট দেখাতে হবে। তবে এয়ারলাইন সংস্থাগুলো চাইলে যাত্রীর দ্বিতীয় পাসপোর্টের সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

