ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের অন্যতম ব্যস্ত কেনাকাটার এলাকা অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরও সেখানে সাইকেল ও বৈদ্যুতিক সাইকেল চালানোর ঘটনা ঘটছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশ কয়েকজন সাইকেল আরোহীকে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন নিয়ম কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২৬ অক্টোবর থেকে অক্সফোর্ড স্ট্রিটের অরচার্ড স্ট্রিট থেকে গ্রেট পোর্টল্যান্ড স্ট্রিট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় বাস, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সাইকেল, ই-বাইক, ই-স্কুটার ও প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। রাস্তাটিকে পথচারীদের জন্য আরও নিরাপদ ও যানবাহনমুক্ত রাখার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পরও কয়েকজন সাইকেল আরোহীকে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার, সতর্কতামূলক চিহ্ন এবং দায়িত্বে থাকা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ ভাড়ায় চালিত ‘লাইম’ কোম্পানির বৈদ্যুতিক সাইকেল ব্যবহার করছিলেন, আবার কেউ সাধারণ সাইকেল চালাচ্ছিলেন।
একটি ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা এক সাইকেল আরোহীকে সাইকেল থেকে নেমে সেটি ঠেলে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ওই আরোহী নির্দেশ মেনে চলার ভান করলেও কর্মকর্তা অন্যদিকে তাকানোর পর আবার সাইকেলে উঠে চলতে শুরু করেন। অন্য কয়েকজনকে নির্ধারিত বিকল্প পথ ব্যবহার না করে ফুটপাত দিয়ে সাইকেল চালাতেও দেখা গেছে।
তবে নতুন নিয়ম সম্পর্কে আরোহীরা আগে থেকে জানতেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে অনেক সাইকেল আরোহীকে নিয়ম মেনে সাইকেল থেকে নেমে সেটি ঠেলে পথচারীদের নির্ধারিত এলাকা পার হতে দেখা গেছে।
ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) জানিয়েছে, অক্সফোর্ড স্ট্রিটের নির্ধারিত অংশে সাইকেল, ই-স্কুটার ও প্যাডেলচালিত রিকশা চালানোর অনুমতি নেই। নতুন নিয়ম সম্পর্কে ভাড়ায় চালিত সাইকেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সড়কে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। পাশাপাশি, প্রথম কয়েক সপ্তাহ এলাকায় টিএফএলের আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাড়ানো হবে। নর্থ ওয়েস্ট এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্সের (এনডব্লিউইসি) নিরাপত্তা সহায়তা দলও এ কাজে যুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ভাড়ায় চালিত বৈদ্যুতিক সাইকেল যাতে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা চিহ্নিত করে সাইকেলের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কোনো ই-বাইক নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করলে সেটির বৈদ্যুতিক সহায়তা কমে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে আরোহীকে সাইকেলটি চালানোর পরিবর্তে ঠেলে নিয়ে যেতে হবে।
বৈদ্যুতিক সাইকেল ভাড়াদাতা প্রতিষ্ঠান লাইম জানিয়েছে, নতুন বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের অ্যাপ হালনাগাদ করা হয়েছে। এ বিষয়ে টিএফএল ও ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে সমন্বয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
লাইমের একজন মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্সফোর্ড স্ট্রিটকে অ্যাপে ‘রাইড-মুক্ত’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো আরোহী সেখানে প্রবেশ করলে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে এবং সাইকেলের বৈদ্যুতিক সহায়তা ধীরে ধীরে কমিয়ে একপর্যায়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওই এলাকায় অবস্থান করে সাইকেল ভাড়ার যাত্রা শেষ করার সুযোগও থাকবে না।
নতুন বিধিনিষেধ ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পেনাল্টি চার্জ নোটিশ বা জরিমানার নোটিশ দেওয়া হতে পারে। প্রতিবেদনে টিএফএলের তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ১৬০ পাউন্ড। তবে নোটিশ পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে তা কমে ৮০ পাউন্ডে নেমে আসবে। নির্ধারিত ২৮ দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে কিংবা আপিল না করলে জরিমানার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য অক্সফোর্ড সার্কাসসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী ও আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সাইকেল আরোহীদের থামানো এবং পথচারীদের নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশের আগে সাইকেল থেকে নেমে সেটি ঠেলে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া।
নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও সাইনবোর্ড স্থাপন, নজরদারি এবং ভাড়ায় চালিত সাইকেলের প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে টিএফএল।
সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড
এমকে

