13 C
London
September 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে বাড়িওয়ালা নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু ২০২৭ সালের জুলাইয়েঃ শেষ সময় অক্টোবর

ইংল্যান্ডে বাড়িওয়ালাদের জন্য জাতীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা চালু হবে। প্রথমে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তী ১২ মাসে ইংল্যান্ডের অন্যান্য অঞ্চলে তা সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী, লন্ডনে বাড়িওয়ালাদের নিবন্ধনের সময় শুরু হবে ২০২৭ সালের ১৫ জুলাই এবং শেষ হবে ১৪ অক্টোবর।

নতুন এই নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাড়াটিয়ারা বর্তমান বা সম্ভাব্য বাড়িওয়ালার পরিচয় ও নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। এর ফলে বাড়িওয়ালা বৈধভাবে ভাড়া দেওয়ার নিয়ম মেনে চলছেন কি না, সে বিষয়ে ভাড়াটিয়ারা তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সরকার জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা বেসরকারি ভাড়া খাতের ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় নেওয়া বৃহত্তর সংস্কারের অংশ। নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোও নিয়ম না মানা বা অনিয়মকারী বাড়িওয়ালাদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব বাড়ি ইতোমধ্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে অথবা নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর সময় যেসব বাড়ি ভাড়াটিয়ার অধীনে যাবে, সেগুলোর বাড়িওয়ালাদের এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। পরবর্তী সময়ে খালি থাকা কোনো বাড়ি ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই বাড়িওয়ালাকে নিবন্ধন করতে হবে।

নতুন আইন কার্যকর হলে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞাপনে বাড়িওয়ালা বা সম্পত্তির নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর ফলে সম্ভাব্য ভাড়াটিয়ারা বাড়ি নেওয়ার আগে নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে বাড়িওয়ালার তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

ব্রিটিশ সরকারের হাউজিং মন্ত্রী ম্যাথিউ পেনিকুক বলেছেন, জাতীয় বাড়িওয়ালা নিবন্ধন ব্যবস্থা বেসরকারি ভাড়া খাতের সম্পত্তি নিয়ে একটি নতুন জাতীয় ডাটাবেস তৈরির প্রথম ধাপ। তার মতে, এই ব্যবস্থা ভাড়াটিয়াদের আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেবে, দায়িত্বশীল বাড়িওয়ালাদের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে রেন্টার্স রাইটস অ্যাক্ট বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

ভাড়া বৃদ্ধির বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ইংল্যান্ডে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিরোধের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব এইচএমআরসি-র ভ্যালুয়েশন অফিসের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে বিরোধগুলো আরও দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে এবং ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ কমবে।

তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে ভাড়াটিয়াদের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে।

আদালত ও আইনবিষয়ক মন্ত্রী সারাহ স্যাকম্যান বলেছেন, ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলাদা সেবা চালু হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ কমবে।

ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন শেল্টার নতুন ডাটাবেসের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির নীতি ও প্রচারবিষয়ক পরিচালক মাইরি ম্যাকরে বলেছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এই ডাটাবেস ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং অনিয়মকারী বাড়িওয়ালাদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করতে পারে।

শেল্টার একই সঙ্গে জনসাধারণের জন্য ডাটাবেসটি দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। প্রতিটি সম্পত্তির আগের ভাড়ার তথ্যও প্রকাশ করা উচিত বলে সংগঠনটি জানিয়েছে, যাতে ভাড়াটিয়ারা অন্যায্য ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।

ন্যাশনাল রেসিডেনশিয়াল ল্যান্ডলর্ডস অ্যাসোসিয়েশন বা এনআরএলএ-র প্রধান নির্বাহী বেন বিডল বলেছেন, ডাটাবেসটি শুধু স্থানীয় বাড়িওয়ালাদের তালিকা হিসেবে না থেকে নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা হওয়া উচিত। তার মতে, এর মাধ্যমে ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় কাউন্সিলগুলো বাড়িওয়ালাদের মানদণ্ড যাচাই করতে পারবে এবং দায়িত্বশীল বাড়িওয়ালারা নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারবেন।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে আগে থেকেই চালু থাকা লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সঙ্গে একই ধরনের তথ্য সংগ্রহের কারণে তথ্যের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন বেন বিডল।

ভাড়া বৃদ্ধির বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব ভ্যালুয়েশন অফিসের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনাকেও স্বাগত জানিয়েছে এনআরএলএ। সংস্থাটির মতে, দ্রুত ও বিশেষায়িত বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়ের জন্যই সুবিধাজনক হবে এবং ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ কমাবে।

সরকারের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ১৪ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। ইস্ট অব ইংল্যান্ডে চলবে ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২৭, ইস্ট মিডল্যান্ডসে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ মে, সাউথ ইস্টে ১৫ মার্চ থেকে ১৪ জুন, ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড হাম্বারে ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুলাই, নর্থ ওয়েস্টে ১৫ মে থেকে ১৪ আগস্ট এবং নর্থ ইস্টে ১৫ জুন থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

লন্ডনের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের সময় শুরু হবে ১৫ জুলাই ২০২৭ এবং শেষ হবে ১৪ অক্টোবর। এরপর সাউথ ওয়েস্টে ১৫ আগস্ট থেকে ১৪ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়িওয়ালা নিবন্ধন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। পার্লামেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন ব্যবস্থা ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রঃ মাই-লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

সাক্ষাৎকার ছাড়াই প্রায় ১২০০০ জনকে আশ্রয় দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাজ্যে সরকার

নিউজ ডেস্ক

হিথ্রো বিমানবন্দরে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলাচল শুরু

ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক মন্দার আংশকা

অনলাইন ডেস্ক