সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান দি সেন্ট্রাল ফার্মেসী বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই ফার্মেসিটির বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।
জানা গেছে, একসময় এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি ব্যবসা কেন্দ্রই ছিল না; বরং এটি ছিল একটি বড় একান্নবর্তী পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি। ফার্মেসিটির আয় দিয়েই একাধিক পরিবার একসাথে বসবাস করত এবং প্রতিদিনের খাবারের আয়োজন হতো সমন্বিতভাবে।
পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে ফিরে নির্দিষ্ট ডাইনিং হলে একত্রে খাবার গ্রহণ করতেন। খাবার প্রস্তুতের জন্য নিয়োজিত ছিল একাধিক বাবুর্চি, আর আলাদা রান্নাঘর ব্যবহৃত হতো চা, কফি ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট শহরের অন্যতম প্রাচীন এই ফার্মেসিটি দীর্ঘদিন ধরে জরুরি ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি রাতের বেলাতেও রোগীদের সুবিধার্থে সারারাত খোলা থাকত প্রতিষ্ঠানটি। কোনো জরুরি ওষুধ অন্য কোথাও না পাওয়া গেলে, অনেকের শেষ ভরসা ছিল এই ফার্মেসি।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ চলাকালেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীদের মাধ্যমে ফার্মেসিটির ওষুধ ও আসবাবপত্র লুট করা হয়। তবে স্বাধীনতার পর পারিবারিক ঐক্যের জোরে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ঘুরে দাঁড়ায় এবং পূর্বের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, স্বার্থের সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মতে, এই ফার্মেসির বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু একটি ব্যবসার সমাপ্তি নয়, বরং সিলেটের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান। তারা মনে করেন, যথাযথ উদ্যোগ ও সমন্বয় থাকলে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল।
এম.কে

