যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন এক চাপ তৈরি হয়েছে, যেখানে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম পার্টি আরও কঠোর অবস্থানের একটি নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। এই নতুন দলের নাম রিস্টোর ব্রিটেন, যার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রিফর্ম সংসদ সদস্য রুপার্ট লো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন শক্তির উত্থান রিফর্ম দলের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করতে পারে।
রিস্টোর ব্রিটেন অভিবাসন নীতি সম্পূর্ণভাবে উল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের প্রস্তাবে রয়েছে আশ্রয় ব্যবস্থার বিলুপ্তি, বিপুল সংখ্যক অভিবাসী বহিষ্কার, এবং বিতর্কিতভাবে কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থীদের তাঁবুতে রাখার পরিকল্পনা।
পাশাপাশি তারা উত্তরাধিকার কর বাতিল, বিদেশি সাহায্য বন্ধ, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচির বাজেট কমিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যভিত্তিক শিক্ষা জোরদার, বোরকা নিষিদ্ধ এবং মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের বিষয়ে গণভোট আয়োজনের কথা বলছে।
রুপার্ট লো ২০২৪ সালে রিফর্ম দলের হয়ে গ্রেট ইয়ারমাউথ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০২৫ সালের মার্চে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ও বিরোধের পর দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
আগামী মেকারফিল্ড উপনির্বাচনকে ঘিরে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। সেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি আবার জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। প্রাথমিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, লেবার দল সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে, রিফর্ম দল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং রিস্টোর ব্রিটেনও উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাচ্ছে।
নির্বাচনী বিশ্লেষক জন কার্টিস বলেছেন, যদি রিস্টোর ব্রিটেন জাতীয়ভাবে প্রায় তিন শতাংশ ভোট পায় এবং সেই ভোটের বড় অংশ রিফর্ম দলের কাছ থেকে আসে, তাহলে দলটি প্রায় সত্তরটি সংসদীয় আসন হারাতে পারে। তার মতে, বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় সামান্য ভোট বিভাজনও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিস্টোর ব্রিটেনকে সমর্থন জানাচ্ছেন, যা দলটির অনলাইন প্রভাব বাড়িয়েছে। রুপার্ট লোর বিপুল অনুসারীর কারণে দলটি দ্রুত জনমত তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।
গবেষণা সংস্থা মোর ইন কমনের লুক ট্রাইল জানিয়েছেন, আলোচনায় রিস্টোর ব্রিটেনের উপস্থিতি বাড়ছে এবং কিছু রিফর্ম সমর্থক তাদের দিকে ঝুঁকছে। তার মতে, ভোটের সামান্য পরিবর্তনও রিফর্ম দলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনীতিতে এখন নতুন বিভাজন তৈরি হয়েছে, যেখানে রিফর্ম দলকে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, নিজেদেরই আরও কঠোর একটি রাজনৈতিক শক্তির চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এতে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে রিফর্ম পার্টির ফলাফল আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
সূত্রঃ মিরর
এম.কে

